
রাজধানীর হাসপাতালগুলোতে হামে আক্রান্ত শিশুদের চাপ, আইসিইউ সংকটে চিকিৎসা ব্যাহত
স্বাস্থ্য প্রতিবেদক : রাজধানীর বাইরে সরকারি হাসপাতালগুলোতে শয্যা সংকটের অজুহাতে হামে আক্রান্ত শিশুদের ঢাকায় পাঠানো থামছে না। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কঠোর নির্দেশনার পরও এই প্রবণতা অব্যাহত থাকায় রাজধানীর বিশেষায়িত হাসপাতালগুলোতে রোগীর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে।
শনিবার (তারিখ উল্লেখিত) মহাখালীর ডিএনসিসি ডেডিকেটেড কোভিড ও শিশু হাসপাতাল ঘুরে রোগী, স্বজন ও চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।
গত বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর দেশের সব সরকারি হাসপাতালকে নির্দেশ দেয়, শয্যা সংকট দেখিয়ে কোনো রোগী ফেরত দেওয়া যাবে না। পাশাপাশি জটিল না হলে রোগী ঢাকায় না পাঠানোরও নির্দেশনা দেওয়া হয়। তবে বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, ঢাকার বাইরে থেকেই রোগীদের বড় অংশ রাজধানীর হাসপাতালগুলোতে আসছে।
ডিএনসিসি হাসপাতালে বর্তমানে ভর্তি রোগীদের অধিকাংশই বিভিন্ন জেলা থেকে আসা।
হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় আইসোলেশন ওয়ার্ডে বর্তমানে ৪৬৪ জন রোগীর মধ্যে ৩৯০ জন শিশু। চাপ বেশি থাকায় একাধিক শয্যায় দুইজন শিশুকে রেখেও চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। আইসিইউতে ভর্তি রয়েছে ৫২ জন শিশু এবং সবগুলো শয্যা পূর্ণ।
ঢাকার বাইরে থেকে আসা রোগীদের স্বজনরা জানান, একাধিক হাসপাতাল ঘুরেও শয্যা না পেয়ে শেষ পর্যন্ত ঢাকায় আসতে হয়েছে।
গাজীপুরের জাকিয়া সুলতানা বলেন, তার আট মাসের সন্তান হামে আক্রান্ত। স্থানীয় হাসপাতাল ও আরও কয়েকটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র ঘুরে শেষ পর্যন্ত ঢাকায় আসেন তিনি।
টাঙ্গাইলের সাথী আক্তার এবং ঝিনাইদহের হুমায়ুন কবীরও একই অভিজ্ঞতার কথা জানান।
চিকিৎসকরা জানান, অধিকাংশ শিশু জ্বর, কাশি, চোখ লাল হওয়া ও ফুসকুড়ি নিয়ে হাসপাতালে আসছে। অনেকেই টিকা নেয়নি বা দেরিতে এসেছে, ফলে নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টসহ জটিলতা তৈরি হচ্ছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, দূর জেলা থেকে রোগী আসায় চাপ বহুগুণ বেড়ে গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হামে উপসর্গে আরও ১১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামে উপসর্গে মৃত্যু দাঁড়িয়েছে ২৫১ জনে।
একই সময়ে ৩০ হাজারের বেশি শিশুর মধ্যে উপসর্গ দেখা দিয়েছে এবং প্রায় ২০ হাজার শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জেলা পর্যায়ে চিকিৎসা সক্ষমতা দ্রুত না বাড়ালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। তারা শিশুদের টিকা নিশ্চিত করা, উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া এবং রোগী আলাদা রাখার ওপর জোর দেন।
ডিএনসিসি হাসপাতালের পরিচালক জানান, চিকিৎসক বাড়ানো হলেও রোগীর চাপ সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।
