
নিজস্ব প্রতিবেদক : লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ে উন্নয়ন প্রকল্পের বিল পাসের বিনিময়ে ‘৫ শতাংশ’ অলিখিত কমিশন আদায়ের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা প্রকৌশলী মো. ইকবাল হোসেনের বিরুদ্ধে। শুধু ঘুষ বা দুর্নীতি নয়, নিজ জেলায় কর্মরত থেকে ক্ষমতার দাপট দেখানো এবং অধীনস্থ কর্মচারীদের সঙ্গে অশোভন আচরণেরও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
সম্প্রতি এ সংক্রান্ত নানা অনিয়মের খবর বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশিত হলে নড়েচড়ে বসে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। বিষয়টির সত্যতা যাচাইয়ে এলজিইডির প্রধান কার্যালয় থেকে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বিল পাসেই যত ‘প্রতিবন্ধকতা’ অনুসন্ধানে জানা যায়, সদর উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের বিল ছাড় করতে গেলেই ঠিকাদারদের পড়তে হয় প্রকৌশলী ইকবাল হোসেনের কবলে। মেসার্স মনোয়ারা এন্ড ফাল্গুনি ট্রেডার্সসহ একাধিক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অভিযোগ, ২০২২-২৩ অর্থবছরের কাজে শতভাগ বিল পাওয়ার যোগ্য হওয়ার পরও কমিশন না দেওয়ায় আটকে রাখা হয়েছে তাদের পাওনা। ঠিকাদারদের দাবি, সরকারি নিয়ম মেনেই কাজ করা হয়েছে, অথচ রানিং বিল দেওয়ার নামে হয়রানি করে তাদের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে।
নিয়ম ভেঙে নিজ জেলায় দাপট সরকারি বিধিনিষেধ থাকার পরও প্রকৌশলী ইকবাল হোসেন লক্ষ্মীপুর সদর, রায়পুর ও চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার দায়িত্ব পালন করছেন। তার বাড়ি লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার চরপাতা গ্রামে। নিজ এলাকায় দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে তিনি ক্ষমতার দাপট দেখাচ্ছেন বলে স্থানীয় ঠিকাদারদের অভিযোগ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ঠিকাদার আক্ষেপ করে বলেন, “বিল সংক্রান্ত কাজে অফিসে গেলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করিয়ে রাখা হয়। মনে হয়, কাজ সম্পন্ন করে আমরা অপরাধ করেছি। জুন ক্লোজিংয়ের সুযোগ নিয়ে সব ঠিকাদারের কাছ থেকেই কৌশলে ৫ শতাংশ হারে অর্থ আদায় করা হয়েছে।”
কর্মচারীরাও জিম্মি প্রকৌশলী ইকবাল হোসেনের বিরুদ্ধে দাপ্তরিক শৃঙ্খলার চরম অবনতির অভিযোগও রয়েছে। কার্যালয়ের কয়েকজন কর্মচারী জানান, তিনি কথায় কথায় তুচ্ছ কারণে তাদের ওপর চড়াও হন এবং অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মচারী বলেন, “তার ভয়ে আমরা অফিসে অনেকটা জিম্মি অবস্থায় কাজ করি, মুখ খোলার সাহস কারোরই নেই।”
যা বলছে কর্তৃপক্ষ অভিযোগের বিষয়ে জানতে প্রকৌশলী মো. ইকবাল হোসেনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তিনি ব্যস্ততার অজুহাতে কথা বলতে রাজি হননি। যদিও এর আগে তার বিরুদ্ধে আনীত সকল অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেছিলেন।
এ বিষয়ে এলজিইডি নোয়াখালী অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও তদন্ত কর্মকর্তা এ এস এম মহসীন বলেন, “অভিযোগগুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে সরেজমিন তদন্ত করে প্রধান কার্যালয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।”
উল্লেখ্য, ১৫ জুলাই বুধবার এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলীর পক্ষে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (প্রশাসন) স্বাক্ষরিত আদেশে এই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
