লক্ষ্মীপুরে পৌরসভার আটিয়াতলীতে চুরির উপদ্রব, যুবকের বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভোরের পত্রিকা
প্রকাশ: ৭ ঘন্টা আগে

নিজস্ব প্রতিবেদক : লক্ষ্মীপুর পৌরসভার আটিয়াতলি এলাকায় আশঙ্কাজনক হারে চুরির ঘটনা বেড়ে গেছে। এসব চুরির ঘটনায় সুজন নামের এক যুবককে দায়ী করে তাঁর শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। গতকাল বুধবার (২২ জুলাই) সন্ধ্যায় লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ১১ নম্বর ওয়ার্ডের আটিয়াতলি মামুনের দোকান এলাকায় এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

অভিযুক্ত সুজন একই এলাকার সেকান্তর মিয়ার ছেলে। স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, সুজন এলাকায় এলেই চুরির ঘটনা ঘটে। বাড়ির হাঁড়ি-পাতিল থেকে শুরু করে মোবাইল, বাইসাইকেল, মোটরসাইকেল ও পুকুরের মাছ—সবকিছুই চুরি করেন তিনি।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসী জানান, সম্প্রতি স্থানীয় খাসের বাড়ির কামাল হোসেনের মোটরসাইকেল, মোবাইল ও স্বর্ণালংকার, একই এলাকার আব্দুল গফুরের নতুন অটোরিকশা, তামান্নার মোবাইল, ইব্রাহিমের বাইসাইকেল এবং শাহাদাতের পুকুরের মাছ চুরির ঘটনা ঘটেছে। সম্প্রতি মাছ চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে নাজিম উদ্দিন নামের এক দোকানিকে সুজন মারধর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে স্থানীয় লোকজন ক্ষুব্ধ হয়ে সুজনকে গণপিটুনি দেন।

ভুক্তভোগী মো. ইব্রাহিম বলেন, ‘সুজন এলাকায় এলেই চুরির ঘটনা বাড়ে। সে আমার বাইসাইকেলটি চুরি করে নিয়ে গেছে।’

দোকানি নাজিম উদ্দিন বলেন, ‘সুজন মাদকসেবী এবং এর ব্যবসাও করে। মানুষের বাড়ির হাঁড়ি-পাতিল থেকে শুরু করে চোখের সামনে যা পায়, সবই চুরি করে। তার যন্ত্রণায় এলাকার মানুষ অতিষ্ঠ।’

অটোরিকশাচালক আব্দুল গফুর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমার নতুন অটোরিকশাটি সে চুরি করে নিয়ে গেছে। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের কাছে বিচার দিয়েও কোনো প্রতিকার পাইনি।’

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত মো. সুজনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সংযোগ পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গণপিটুনিতে আহত হয়ে সুজন বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এ বিষয়ে লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওয়াহিদ পারভেজ বলেন, ‘চোর-ডাকাত ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। যদি সুজন চুরির ঘটনায় জড়িত থাকে, তবে তদন্ত সাপেক্ষে তাকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।’