
লক্ষ্মীপুর জেলা প্রতিনিধি :
লক্ষ্মীপুরে এক স্কুলশিক্ষককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে ২০১৭ সালে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারা কয়েকজন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে।
শনিবার (২৮ মে) দুপুরে সদর উপজেলার টুমচর আসাদ একাডেমির প্রবেশমুখে এ ঘটনা ঘটে। আহত শিক্ষকের নাম মো. হেলাল উদ্দিন। তিনি একই বিদ্যালয়ের ভৌতবিজ্ঞানের শিক্ষক ও সদর উপজেলার মান্দারী ইউনিয়নের গন্ধব্যপুর এলাকার লকিয়ত উল্যার ছেলে।
অভিযুক্তদের মধ্যে একজনের নাম জানা গেছে। তার নাম মুরাদ হোসেন। ২২ বছর বয়সী মুরাদ টুমচর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের আবুল কাসেমের ছেলে ও একই প্রতিষ্ঠানের প্রাক্তন শিক্ষার্থী। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বাড়ি থেকে মোটরসাইকেল নিয়ে বিদ্যালয়ে আসেন হেলাল উদ্দিন। বিদ্যালয়ে ঢোকার সময় তার গতিরোধ করেন ওত পেতে থাকা মুরাদ ও তার ছয়-সাতজন সহযোগী। কারণ জানতে চাইতেই তারা লাঠিসোঁটা নিয়ে শিক্ষকের ওপর হামলা চালান। এ সময় বলতে থাকেন, ‘২০১৭ সালে তোর কারণে টেস্ট পরীক্ষায় অংশ নিতে পারিনি। তোর কারণে বিদ্যালয়ে থাকার সময় পরীক্ষায় নকল করতে পারিনি। আজ তোকে পাইছি।’ এসব বলে কিল-ঘুষি-লাথি দিয়ে শিক্ষক হেলাল উদ্দিনকে মারাত্মক জখম করেন। এ সময় শিক্ষকের মোটরসাইকেলটিও ভাঙচুর করেন তারা।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন হেলাল উদ্দিন বলেন, ২০১৭ সালে টেস্ট পরীক্ষায় ফেল করার কারণে মুরাদ পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি। ওই সময় দায়িত্বরত অধ্যক্ষ তাকে সুযোগ দেননি। আমি কোনো অন্যায় করিনি। এরপরও মুরাদের নেতৃত্বে ছয়-সাতজন সন্ত্রাসী আমার ওপর হামলা চালায় ও মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে। হামলাকারী সবাইকে না চিনলেও মুরাদকে চিনতে পেরেছি।
টুমচর আসাদ একাডেমির অধ্যক্ষ ফারজানা নুর বলেন, বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। ছাত্র হয়ে কীভাবে শিক্ষকের ওপর হামলা চালায়। এ ব্যাপারে আইনি ব্যবস্থা নিতে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
এলাকার চেয়ারম্যানকে এই বিষয় জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, এই ঘটনাটা খুবই দুঃখ জনক। এই ব্যাপারে আমরা কথা বলেছি এবং আমরা ব্যবস্তা নিচ্ছি খুব শীগ্রই।
সদর থানার ওসি মোস্তফা কামাল জানান, অভিযোগ পেলে এ ব্যাপারে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
