
নাজমুল হোসেন, নিজস্ব প্রতিবেদক : লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চন্দ্রগঞ্জ থানার হাজিরপাড়া ইউনিয়নের শিবপুর এলাকায় জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধকে কেন্দ্র করে খালি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও এক সার্ভেয়ারের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
জানা যায়, হাজিরপাড়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের শিবপুর এলাকায় জয়নাল আবেদীন ও মোছলে উদ্দিনের মধ্যে জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। ২০১৭ সালের ১৬ এপ্রিল জয়নাল আবেদীন ইউনিয়ন পরিষদে একটি অভিযোগ দেন (মামলা নং ১০/২০১৭)। ইউনিয়ন পরিষদ ওই বিরোধের সমাধান করতে ব্যর্থ হলে জয়নাল আবেদীন ২০২৪ সালের ১০ নভেম্বর লক্ষ্মীপুর সেনা ক্যাম্পে আবারও লিখিত অভিযোগ করেন (অভিযোগ নং ৭১৯/২০২৪)।
অভিযোগের ভিত্তিতে সেনা ক্যাম্প থেকে হাজিরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সামছুল আলমকে দায়িত্ব দেওয়া হয় বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য। পরে চেয়ারম্যানের নির্দেশে ইউনিয়নের সার্ভেয়ার আমির হোসেন উভয় পক্ষের কাছ থেকে খালি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জয়নাল আবেদীন অভিযোগ করে বলেন, ‘বিচার শেষ করে কাগজ দেওয়া হবে’—এমন কথা বলে তাঁর ও বিবাদী মোছলে উদ্দিনের কাছ থেকে খালি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয়।
তিনি দাবি করেন, ‘পরে সেই স্ট্যাম্পে চেয়ারম্যান ও সার্ভেয়ার নিজেদের মতো করে লেখালেখি করেন। এতে আমার ভালো জমিগুলো মোছলে উদ্দিনের নামে দেখানো হয়েছে।’
অন্যদিকে বিবাদী মোছলে উদ্দিন বলেন, ‘আমাদের মধ্যে জমি নিয়ে যে বিরোধ আছে, তা মূলত জমিতে যাতায়াতের পথ ঘিরে।’
এ বিষয়ে হাজিরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সামছুল আলম বলেন, ‘জয়নাল আবেদীন অভিযোগ করার পর উভয় পক্ষকে ডেকে জমি পরিমাপ করে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রক্রিয়া অনুযায়ী আগে স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয়।’
সার্ভেয়ার আমির হোসেন বলেন, ‘চেয়ারম্যানের নির্দেশে জমি মাপা হয়। উভয় পক্ষকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। মূল স্ট্যাম্পটি মোছলে উদ্দিনকে ফেরত দেওয়া হয়েছে।’
জমি–বিরোধ নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে অসঙ্গতি থাকায় এলাকায় নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে দু’পক্ষই এখন প্রশাসনের হস্তক্ষেপ প্রত্যাশা করছেন।
