
হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী : পবিত্র মাহে রমজান অত্যন্ত মর্যাদাশীল ও বরকতময়। এটি সিয়াম সাধনা ও তাকওয়ার মাস; রহমত, মাগফিরাত ও জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তির মাস। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন এ মাসকে বিশেষ ফজিলত ও মর্যাদায় অভিষিক্ত করেছেন। মুসলমানদের জন্য বছরের এ মাস এক অনন্য সুযোগ—আত্মশুদ্ধি, নেক আমল বৃদ্ধি এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভের সুবর্ণ সময়।
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, “সুতরাং তোমাদের মধ্যে যারা এ মাস পাবে, তারা যেন এ মাসে রোজা পালন করে।” (সূরা আল-বাকারাহ: ১৮৫)। এ আয়াতের মাধ্যমে রমজানের রোজা ফরজ হওয়ার পাশাপাশি এর তাৎপর্যও সুস্পষ্ট হয়েছে।
রোজার মর্যাদা সম্পর্কে হাদিসে কুদসিতে মহান আল্লাহ ঘোষণা করেছেন, মানুষের সব নেক আমলের সওয়াব ১০ গুণ থেকে ৭০০ গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়। কিন্তু রোজা এর ব্যতিক্রম। “রোজা আমার জন্য, আর এর প্রতিদান আমিই দেব।”—এ কথা বর্ণিত হয়েছে সহিহ বোখারি ও সহিহ মুসলিম–এ। অর্থাৎ রোজার সওয়াব নির্ধারিত কোনো সীমার মধ্যে আবদ্ধ নয়; এর পুরস্কার স্বয়ং আল্লাহ তাআলা প্রদান করবেন।
রমজান মাসে ইবাদতের ফজিলত অপরিসীম। হাদিসে এসেছে, এ মাসে একটি নফল ইবাদত অন্য মাসের একটি ফরজের সমতুল্য এবং একটি ফরজ অন্য সময়ের সত্তরটি ফরজের সমান সওয়াবের অধিকারী হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) আরও ইরশাদ করেছেন, “যে ব্যক্তি ঈমান ও ইহতেসাবের সঙ্গে রোজা রাখে, তার অতীতের গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়।” (বোখারি ও মুসলিম)।
রমজান মাসেই পবিত্র কোরআন নাজিল হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, “রমজান মাসই সে মাস, যাতে নাজিল করা হয়েছে কোরআন, যা মানুষের জন্য হেদায়াত এবং সত্যপথের সুস্পষ্ট নির্দেশনা।” (সূরা আল-বাকারাহ: ১৮৫)। এ মাসে রহমতের দরজা উন্মুক্ত করা হয়, জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং শয়তানদের শৃঙ্খলাবদ্ধ করা হয়—এ মর্মে বর্ণনা রয়েছে সহিহ মুসলিম ও সহিহ বোখারি–তে।
হাদিসে আরও এসেছে, আল্লাহ তাআলা প্রতিদিন ইফতারের সময় বহু মানুষকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন (মুসনাদে আহমদ)। তাই রমজান হলো নাজাতের মাস। এ মাসে বেশি বেশি ইবাদত, তওবা ও ইস্তিগফারের মাধ্যমে মুক্তির সনদ লাভের চেষ্টা করা প্রত্যেক মুমিনের দায়িত্ব।
রোজা, তারাবিহ নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, সাহরি-ইফতার, জাকাত, সাদাকাতুল ফিতর ও দান-খয়রাত—এসব আমল মানুষের কুপ্রবৃত্তি দমন করে এবং তাকওয়া অর্জনে সহায়ক হয়। রমজান মূলত আত্মসংযম, ধৈর্য, সহমর্মিতা ও আল্লাহভীতির প্রশিক্ষণ।
অতএব, এমন বরকতময় মাস পেয়েও যে ব্যক্তি নিজের গুনাহ মাফ করাতে পারে না, সে সত্যিই হতভাগা। মহান আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে প্রকৃত অর্থে রোজা পালনের তাওফিক দান করুন এবং রমজানের ফজিলত অর্জনের সৌভাগ্য দান করুন। আমিন।
লেখক: হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী
বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদ, লেখক ও কলামিস্ট
সাবেক ইমাম ও খতিব, কদমতলী মাজার জামে মসজিদ, সিলেট
প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, জকিগঞ্জ উপজেলা সচেতন নাগরিক ফোরাম, সিলেট
