রায়পুরে শীতে কাঁপছে মানতা জেলে সম্প্রদায়, মাছ ধরতে নামতে পারছেন না

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভোরের পত্রিকা
প্রকাশ: ৭ মাস আগে

মো. ওমর ফারুক, জেলা প্রতিনিধি | লক্ষ্মীপুর : লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় শীতের তীব্রতা বাড়ায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছে মেঘনা নদীপাড়ের ভাসমান জেলে সম্প্রদায়, যাদের স্থানীয়ভাবে মানতা নামে পরিচিত। প্রচণ্ড ঠান্ডায় কাঁপছে পুরো সম্প্রদায়টি। শীতের কারণে রাতে ঠিকমতো ঘুমাতে পারছেন না তারা। গত এক সপ্তাহ ধরে মাছ ধরতে নদীতেও নামতে পারছেন না অনেক জেলে।

এলাকাবাসী জানান, প্রায় ১০ দিন আগেও রাত ১১টা পর্যন্ত বাজারে মানুষের চলাচল দেখা গেলেও এখন রাত ৮টার পরই বাজার ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে। শীত এড়াতে সন্ধ্যার পর অধিকাংশ মানুষ ঘরে ফিরে যাচ্ছেন। আবহাওয়া-সংক্রান্ত ওয়েবসাইট অনুযায়ী, চলতি শীতে লক্ষ্মীপুরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমেছে ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। নদী এলাকায় শীতের তীব্রতা আরও বেশি অনুভূত হচ্ছে।

মানতা সম্প্রদায়ের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত তাদের জীবন কেটে যায় নৌকাতেই। খুব বেশি প্রয়োজন না হলে তারা নৌকা ছেড়ে স্থলে ওঠেন না। পুরুষ সদস্যরা মাঝে মধ্যে হাটবাজারে গেলেও নারী ও শিশুরা নৌকাতেই থাকে। একটি শিশুর জন্ম, বেড়ে ওঠা—সবকিছুই নৌকাকেন্দ্রিক।

মানতা সম্প্রদায়ের সদস্য সুফিয়া আছমা আক্তার ও জলিল মাঝি বলেন, তারা কখনো স্থায়ীভাবে জমিতে বসবাস করেননি। তাদের সন্তান, নাতি-নাতনিদের অবস্থাও একই। বর্ষায় বৃষ্টির সঙ্গে যুদ্ধ করতে হয়, গ্রীষ্মে খরতাপে পুড়তে হয়। আর শীতে নদী থেকে আসা হিমেল বাতাস শরীরের ভেতর পর্যন্ত কাঁপন ধরিয়ে দেয়।

তারা জানান, গত বছর সরকারি কম্বলসহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের পক্ষ থেকে শীতবস্ত্র পেলেও এবার এখনো কেউ খোঁজ নেয়নি। শীতের কারণে নদীতে নামতে না পারায় আয়ও বন্ধ হয়ে গেছে।

মানতা সম্প্রদায়ের সদস্যরা আরও বলেন, সরকার থেকে তারা নিয়মিত সহযোগিতা পেয়ে আসছেন। তবে এবছর শীতের তীব্রতা বেশি হলেও এখনো সহায়তা পৌঁছায়নি।

এ বিষয়ে রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান কাউসার বলেন, খুব শিগগিরই সরকারি সহায়তা নিয়ে মানতা সম্প্রদায়ের কাছে যাওয়া হবে। তাদের মধ্যে চাল ও শীতবস্ত্র বিতরণ করা হবে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব সময়ই তাদের খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।