
মো. ওমর ফারুক, রায়পুর (লক্ষ্মীপুর): মেঘনা নদীর অব্যাহত ও ভয়াবহ ভাঙনে লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার চরম আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে নদীপাড়ের শতাধিক পরিবার। বর্ষা পুরোপুরি শুরু হওয়ার আগেই নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কায় অনেক পরিবার এখন ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র সরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
উপজেলার ২ নম্বর উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের গরম বাজার এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মেঘনা নদীর তীরে তীব্র স্রোতে পাড়ের বড় বড় অংশ ধসে পড়ছে। বেশ কয়েকটি বসতঘর এখন ভাঙনের একেবারে কিনারায় অবস্থান করছে। কোথাও কোথাও ঘর থেকে নদীর দূরত্ব মাত্র কয়েক ফুট। নদীতীরে বড় বড় ফাটল সৃষ্টি হয়েছে, যা সামান্য বৃষ্টি কিংবা জোয়ারের পানির চাপেই ধসে পড়ছে। নদীপাড়ের ঝুঁকিপূর্ণ এই ঘরগুলো যেন স্থানীয় বাসিন্দাদের চরম উৎকণ্ঠার নীরব সাক্ষ্য বহন করছে।
ভাঙনের মুখে পড়া গরম বাজার এলাকার বাসিন্দা রহিমা বেগম কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, ‘নদীর দিকে তাকালেই বুকটা কেঁপে ওঠে। এই ঘরটা বানাতে কত কষ্ট করেছি। এখন মনে হয় সবকিছু চোখের সামনে ভাসিয়ে নিয়ে যাবে নদী।’
তাঁর মতো একই শঙ্কায় দিন কাটছে নদীভাঙনের মুখে থাকা অসংখ্য পরিবারের। স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল করিম বলেন, ‘পুরো বর্ষা এখনো শুরুই হয়নি। এর মধ্যেই নদী যেভাবে পাড় ভাঙছে, তাতে বর্ষা এলে কী হবে সেই চিন্তায় ঘুম আসে না। এখনই ব্যবস্থা না নিলে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে অনেক মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়ে পথে বসবে।’
স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত এবং কার্যকর কোনো টেকসই ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে যেকোনো সময় একাধিক বসতবাড়ি ও স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে। নদী শুধু তাদের ভিটেমাটিই ভাঙছে না, ভেঙে দিচ্ছে মানুষের স্বপ্ন, নিরাপত্তা ও ভবিষ্যতের আশ্রয়।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে লক্ষ্মীপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী গোকুল চন্দ্র পাল বলেন, ‘রায়পুর উপজেলার প্রায় চার কিলোমিটার এলাকাজুড়ে নদীভাঙন অব্যাহত রয়েছে। ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে একটি প্রকল্প প্রস্তাবনা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।’
তিনি আরও জানান, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে গত ৫ জুন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. এনামুল হক ভাঙনকবলিত এই এলাকাটি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন। সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ দ্রুত প্রয়োজনীয় ও স্থায়ী পদক্ষেপ নেবে—এমনটাই এখন চাতক পাখির মতো আশা করছেন নদীপাড়ের অসহায় মানুষেরা।
