মেঘনা নদীতে অভিযানে অবৈধ জাল ধ্বংস

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভোরের পত্রিকা
প্রকাশ: ৩ years ago

ফারজানা আক্তার বৃষ্টি, নিজস্ব প্রতিবেদক:

প্রতিবছর মার্চ ও এপ্রিল দুই মাস উল্লেখিত অভয়াশ্রমে ইলিশসহ সব ধরণের মাছ আহরণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকে। এসময় ইলিশের অভয়াশ্রমসমূহে ইলিশসহ সকল প্রকার মাছ ধরা আইনত দন্ডনীয় অপরাধ।

নদী, সমুদ্র ও দেশীয় জলাশয়ে মাছ ধরার বিশেষ যন্ত্র কারেন্ট জালের ব্যবহার ২০ বছর আগে আইন করে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। ইলিশসহ দেশের বিভিন্ন প্রজাতির মাছ হুমকির মুখে থাকায় এ পদক্ষেপ নেয়া হয়।মৎস্য সম্পদ ধ্বংসকারী বেহুন্দি জাল, কারেন্ট জাল, খুঁটি জাল, চরঘেরা জাল, মশারি জাল ও অন্যান্য ক্ষতিকর অবৈধ জাল অপসারণে লক্ষ্মীপুরের রামগতির মেঘনা নদীতে মোবাইল কোর্ট অভিযান চালিয়েছেন উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য দপ্তর।

বৃহস্পতিবার মৎস্য সম্পদ ধ্বংসকারী বেহুন্দি জাল, কারেন্ট জাল, খুঁটি জাল, চরঘেরা জাল, মশারি জাল ও অন্যান্য ক্ষতিকর অবৈধ জাল অপসারণে লক্ষ্মীপুরের রামগতির মেঘনা নদীতে অভিযান চালিয়েছেন উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য দপ্তর। ফলে বিশেষ কম্বিং অপারেশনে জব্দ করা অবৈধ জালগুলোতে আগুন লাগিয়ে ধ্বংস করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২০ এপ্রিল) উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন ও নৌ পুলিশ ফাঁড়ী রামগতি লক্ষ্মীপুরের অফিসার ফোর্সদের সমন্বয়ে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে অত্র ফাঁড়ীর আওতাধীন ওসখালী নামক স্থান মেঘনা নদীর তীর হইতে ৫৫ টি চরঘিরা ও দুটি চায়না চাই পরিত্যাক্ত অবস্থা হইতে উদ্ধার করে। যা নদীর তীরে প্রকাশ্য স্থানে আগুনে পুড়াইয়া ধ্বংস করা হয়।

সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিন বলেন, সকাল থেকে দিনব্যাপি মেঘনা নদীতে অবৈধ জালের ব্যবহার বন্ধের অভিযানে জব্দকৃত অবৈধ জালগুলোতে আগুন দিয়ে ধ্বংস করা হয়েছে। কয়েক ধাপে চলবে এ অভিযান।ক্ষতিকর অবৈধ জাল অপসারণের লক্ষ্যে মার্চ- এপ্রিল এই ২ মাসব্যাপি চলবে অভিযান।

উল্লেখ্য, দি প্রটেকশন অ্যান্ড কনজারভেশন অব ফিশ রুলস, ১৯৮৫ অনুযায়ী সরকার ২০১৩ সালে মৎস্য সম্পদ ধ্বংসকারী বেহুন্দি জাল, মশারি জাল, চরঘেরা জাল, বেড়/জগৎবেড় জাল, কারেন্ট জাল প্রভৃতি ক্ষতিকারক জালের ব্যবহার নিষিদ্ধ করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে এবং ইলিশ আহরণের জালের ফাঁস ৬ দশমিক ৫ সেন্টিমিটার বা ২ দশমিক ৬ ইঞ্চি নির্ধারণ করেছে। মৎস্য সম্পদের জন্য ক্ষতিকর এসব জালের ব্যবহার বাড়লে জাটকাসহ সামুদ্রিক ও উপকূলীয় বিভিন্ন প্রজাতির মাছের ডিম, রেণু ও পোনা নষ্ট হবে এবং উন্মুক্ত জলাশয়ে মাছের উৎপাদনে বিরূপ প্রভাব পড়ার পাশাপাশি জলজ জীববৈচিত্র্য নষ্ট হবে। সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধঘোষিত এসব জাল ব্যবহারকারীকে সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা জরিমানা, ১ অথবা সর্বোচ্চ ২ বছরের কারাদণ্ড কিনবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান রয়েছে।