
ফারজানা আক্তার বৃষ্টি, নিজস্ব প্রতিবেদক: অনেকে ভাবেন, মায়ের দুধ তৈরি হওয়া খুবই স্বাভাবিক ও সহজ একটি প্রক্রিয়া। কিন্তু এর পেছনে কাজ করে বিশাল শারীরবৃত্তীয় পরিশ্রম। এমনকি ইসলামে বলা হয়েছে, মা যদি বাচ্চাকে খাওয়ান, তাহলে তার রোজা রাখার বিধান আলাদা হয়—কারণ স্তন্যদান মানেই শরীরের শক্তি ও পুষ্টির উল্লেখযোগ্য ব্যয়। স্তনের অ্যালভিওলাই কোষগুলো রক্ত থেকে গ্লুকোজ, অ্যামিনো অ্যাসিড, ফ্যাটি অ্যাসিড, ভিটামিন ও মিনারেল সংগ্রহ করে দুধ তৈরি করে। অর্থাৎ মায়ের শরীরের পুষ্টিই শিশুর খাদ্যে রূপান্তরিত হয়। এজন্য একজন স্তন্যদাতা মায়ের দৈনিক প্রায় ৪৫০–৫০০ কিলোক্যালরি অতিরিক্ত শক্তির প্রয়োজন হয়। এছাড়া প্রোটিন, আয়রন, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি, ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স, ওমেগা-৩—সবকিছুর চাহিদা বৃদ্ধি পায়। দুধ তৈরি শুধু পুষ্টির ব্যাপার নয়; এটি হরমোননির্ভর এক জটিল প্রক্রিয়া। প্রোল্যাকটিন দুধ উৎপাদন চালু রাখে, আর অক্সিটোসিন দুধ নিঃসরণে সহায়তা করে। কিন্তু ঘুমের ঘাটতি, মানসিক চাপ বা শারীরিক ক্লান্তি—এসব হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে। ফলে মা শুধু শারীরিক নয়, মানসিকভাবেও একটি বড় অভিযোজনের মধ্য দিয়ে যান।
স্তন্যদানের সময় দীর্ঘক্ষণ একই ভঙ্গিতে বসতে হয়। সঠিক সাপোর্ট না থাকলে পিঠ, ঘাড় ও কাঁধে ব্যথা দেখা দিতে পারে। তাই একটি আরামদায়ক চেয়ার, পিঠের সাপোর্ট, এমনকি পায়ের নিচে স্টুল—এসব বিলাসিতা নয়, বরং শরীরের সুরক্ষার অংশ।শরীরে আরও যে পরিবর্তনগুলো দেখা দিতে পারে:
জরায়ু ধীরে ধীরে আগের আকারে ফিরতে থাকে (অক্সিটোসিন সাহায্য করে) স্তনে ভারী ভাব, ব্যথা বা এনগর্জমেন্ট হতে পারে
ক্যালোরি খরচ বেড়ে যাওয়ায় দ্রুত ক্লান্তি আসে,চুল পড়া, ত্বকের পরিবর্তন, হরমোনজনিত মুড সুইং—এসবও দেখা যায় অর্থাৎ দুধ “স্বাভাবিকভাবে বেরিয়ে আসে” না। এটি মায়ের শক্তি, পুষ্টি, সময়, ঘুম ও ধৈর্যের সমন্বিত বিনিয়োগ। তবুও এই দুধ একটি জীবন্ত, অভিযোজনক্ষম তরল—যা শিশুর বৃদ্ধি,রোগপ্রতিরোধ এবং মানসিক নিরাপত্তা একসাথে বহন করে। তাই স্তন্যদান শুধুই জৈবিক নয়, এটি শারীরিক সহনশীলতা, মানসিক দৃঢ়তা এবং গভীর ভালোবাসার এক বাস্তব প্রমাণ।
একজন মা প্রতিদিন নিজের শরীর থেকে দুধ তৈরী করেন। তাই তার বিশ্রাম, পুষ্টি, সাপোর্ট এবং সম্মান—এসব কোনো অপশন নয়, অপরিহার্য।
