বাগেরহাটে যুব ও নারীবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা ও বাজেট বরাদ্দ নিশ্চিতের দাবিতে এডভোকেসি সভা ও নাটক প্রদর্শন

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভোরের পত্রিকা
প্রকাশ: ৩ মাস আগে

নিজস্ব প্রতিবেদক, বাগেরহাট : বাগেরহাট সদর ও রামপাল উপজেলায় জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন, যুবদের বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং নারীবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণসহ বিভিন্ন ইস্যুতে এডভোকেসি সভা ও নাটক প্রদর্শন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল ২০২৬) সকালে বাগেরহাট সদর উপজেলা পরিষদ হলরুমে এক্টিভিস্টা বাগেরহাট ও রামপালের উদ্যোগে, বাঁধন মানব উন্নয়ন সংস্থা এবং একশনএইড বাংলাদেশের সহযোগিতায় এ কর্মসূচি আয়োজন করা হয়।

সভায় জলবায়ু সহনশীল কৃষি ব্যবস্থা, সবুজ উদ্যোক্তা তৈরি, নিরাপদ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সুপেয় পানি ও টেকসই বেড়িবাঁধ নিশ্চিতকরণ, সাইবার নিরাপত্তা এবং যুব ও নারীবান্ধব বাজেট বরাদ্দসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

বাঁধন মানব উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক এ.এস.এম. মঞ্জুরুল হাসান মিলনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) জয়দেব চক্রবর্তী।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আতিয়া খাতুন, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আব্দুল কাদের, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহকারী উপ-পরিচালক ড. মনির হোসেন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তন্ময় দত্ত, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. প্রদীপ কুমার বকসী, বাগেরহাট পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মাসুম, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মো. জাহিদ হাসান, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা সোহেল পাটোয়ারীসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা।

এছাড়া পুলিশের সাইবার ইউনিট, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সচিবসহ শতাধিক যুব প্রতিনিধি এতে অংশ নেন।

সভায় বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অস্বাভাবিক বৃষ্টি, অনাবৃষ্টি ও লবণাক্ততা বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে উৎপাদন কমে যাচ্ছে। এতে কর্মসংস্থান সংকুচিত হচ্ছে এবং গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর শহরমুখী চাপ বাড়ছে।

তারা আরও বলেন, এখনই সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে। যুবদের দক্ষতা উন্নয়ন, সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা, বাস্তবমুখী প্রশিক্ষণ ও বাজার সংযোগ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

অনুষ্ঠানে যুবদের পরিবেশনায় নাটকের মাধ্যমে স্থানীয় সমস্যা ও সম্ভাব্য সমাধান তুলে ধরা হয়। উপস্থিত কর্মকর্তারা এসব সমস্যা সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন।

এ সময় বক্তারা সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে যুববান্ধব কর্মপরিবেশ, সাইবার নিরাপত্তা সচেতনতা এবং নারীদের জন্য স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে আলাদা বাজেট বরাদ্দের দাবি জানান।

মাহফুজ মাঝির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এ সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন প্রকল্প সমন্বয়কারী সোহাগ হাওলাদার, একশনএইড বাংলাদেশের ইন্সপেক্টর সুমন আচার্য ও প্রজেক্ট অফিসার সানি জোবায়েরসহ অন্যান্যরা।