
সিরাজুল ইসলাম : বাংলাদেশে বন্যা, খরা, ঝড় ও তাপপ্রবাহসহ চরম আবহাওয়া-সংক্রান্ত ঘটনায় প্রতি বছর প্রায় ৩০০ কোটি মার্কিন ডলার ক্ষতি হচ্ছে। এসব দুর্যোগে বছরে ৬৩ লাখের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
জার্মানভিত্তিক সংস্থা জার্মানওয়াচ প্রকাশিত ‘দ্য ক্লাইমেট রিস্ক ইনডেক্স ২০২৫’ প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২২ সালে বাংলাদেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগজনিত ক্ষতির পরিমাণ ছিল ২৯৯ কোটি ডলারের বেশি।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, কার্যকর ঝুঁকি প্রতিরোধ ও অভিযোজন ব্যবস্থার ফলে গত ৪০ বছরে বাংলাদেশে ঘূর্ণিঝড়ে মৃত্যুর সংখ্যা ১০০ গুণের বেশি কমেছে। ১৯৭০ সালের ঘূর্ণিঝড়ে প্রায় ৫ লাখ মানুষের মৃত্যু হলেও ২০০৭ সালে তা কমে দাঁড়ায় ৪ হাজার ২৩৪ জনে।
২০২২ সালের মার্চ থেকে মে পর্যন্ত দক্ষিণ এশিয়ায় ভয়াবহ তাপপ্রবাহ আঘাত হানে। ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশে এ সময় তীব্র গরমে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়। পাকিস্তানে তাপমাত্রা ৪৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত ওঠে এবং এতে ৯০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়।
১৯৯৩ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে ৯ হাজার ৪০০-এর বেশি চরম আবহাওয়া-সংক্রান্ত ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রায় ৮ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার।
নরওয়েভিত্তিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ডিসপ্লেসমেন্ট মনিটরিং সেন্টার (আইডিএমসি)-এর ‘গ্লোবাল ডিসপ্লেসমেন্ট রিপোর্ট ২০২৪’ অনুযায়ী, ২০২৩ সালে বাংলাদেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে প্রায় ১৮ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুতির সংখ্যায় বাংলাদেশ বিশ্বে পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে। ওই তালিকায় শীর্ষে রয়েছে চীন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ঘূর্ণিঝড় ‘মোখা’ একক দুর্যোগ হিসেবে বাংলাদেশে প্রায় ১৩ লাখ মানুষকে বাস্তুচ্যুত করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারের আগাম সতর্কবার্তা, আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের কারণে ক্ষয়ক্ষতি আগের তুলনায় কমেছে।
বিশেষ করে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবিরে আগাম প্রস্তুতির কারণে সম্ভাব্য বড় ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত তিন দশকে ‘গ্লোবাল সাউথ’-এর দেশগুলো চরম আবহাওয়ার সবচেয়ে বেশি প্রভাব মোকাবিলা করেছে।
জার্মানওয়াচের আন্তর্জাতিক জলবায়ু নীতির প্রধান লরা শ্যাফার বলেন, “জলবায়ু সংকট এখন বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি। এটি মোকাবিলায় শক্তিশালী বহুপাক্ষিক উদ্যোগ প্রয়োজন।”
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে বাংলাদেশ আরও বড় ঝুঁকিতে পড়বে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, লবণাক্ততা বৃদ্ধি ও কৃষিজমি কমে যাওয়ার কারণে ভবিষ্যতে বিপুলসংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হতে পারে।
