পাবনায় চাঁদা না দেওয়ায় গেঞ্জি কারখানায় হামলা, গুলি বর্ষণ ও লুটপাট

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভোরের পত্রিকা
প্রকাশ: ১ বছর আগে

  • রাকিব হোসেন মিলন, সিনিয়র রিপোর্টার :

পাবনা সদর উপজেলার হিমায়েতপুর ইউনিয়নের চর শিবরামপুর এলাকায় একজন উদ্যোক্তার গেঞ্জির কারখানায় হামলা, ভাঙচুর, গুলি বর্ষণ ও লুটপাটের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। 

এ ঘটনায় স্থানীয় মো. রবিউল ইসলাম প্রামানিক নামের এক ব্যক্তি পাবনা থানায় একটি এজাহার দাখিল করেছেন।

রবিউল ইসলাম প্রামানিক অভিযোগ করেছেন তার নিজস্ব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স নবাব ট্রেডার্স’-এ দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় একটি চাঁদাবাজ চক্র দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলো। চাঁদা না দিলে ব্যবসা বন্ধ ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছিল নিয়মিত।

অভিযোগ সূত্র, গত ২১ এপ্রিল রাত সাড়ে ৮টার দিকে উল্লেখিত চারজন চিহ্নিত আসামি করে অভিযোগ দাখিল করেন। তারা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে, দরজা কুপিয়ে কাটে, আসবাবপত্র ভেঙে ফেলে এবং আতঙ্ক সৃষ্টি করতে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে।

রবিউল বলেন, “আমার জীবন নিয়ে যখন টানাটানি, তখন পেছনে তাকানোর সুযোগ নেই। প্রাণ বাঁচাতে দৌঁড়ে পালিয়েছিলাম। কিন্তু আমি যা গড়েছি, তা লুটপাট করে নিয়ে গেছে ওরা।”

ঘটনার সময় কারখানা থেকে প্রায় এক লাখ টাকা মূল্যের গেঞ্জি লুট করে নিয়ে যায় হামলাকারীরা বলে দাবি করেন তিনি। স্থানীয়দের আগমনে হামলাকারীরা ফাঁকা গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী নুরুল সরদার, আইয়ুব সরদার এবং আনোয়ার জানান, “এমন ভয়ংকর পরিস্থিতি আমরা দীর্ঘদিন দেখিনি। শুধু চাঁদা না দেওয়াতেই এমন হামলা—এটা মেনে নেওয়া যায় না।”

রবিউলের দাবি, এখনো তিনি পরিবার নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। কারখানায় কাজ বন্ধ। স্বপ্নভঙ্গের হতাশায় তিনি থানায় আইনি আশ্রয় নিলেও আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় আতংক ছড়িয়ে পড়েছে। চাঁদাবাজ সন্ত্রাসীদের পক্ষ থেকে গুলির ঘটনায় অনেকেই ভয়ে ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। তবে গুলির বিষয়ে পুলিশের পক্ষ  অধিক তদন্ত ও আসামি গ্রেফতারের বিষয় থাকলেও তেমন কোনো দৃশ্যমান তৎপরতা চোখে পড়েনি। একাধিক স্থানীয় লোকজন এ বিষয়ে ক্ষোভ জানিয়েছেন। 

দেশে যেখানে যুবকরা আত্মকর্মসংস্থানের দিকে ঝুঁকছে, সেখানে একটি গার্মেন্টস কারখানায় এমন হামলা শুধু ব্যক্তি রবিউল নয়, পুরো উদ্যোক্তা সমাজের জন্য হুমকিস্বরূপ। প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ না এলে এ ধরণের ঘটনা আরও বেশি তরুণকে নিরুৎসাহিত করতে পারে।

এ বিষয়ে পাবনা থানার ওসি বলেন, “লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এলাকায় পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।”