নববর্ষের প্রথম প্রহরে সন্তানের জন্ম, প্রবাসে থাকা বাবার আনন্দ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভোরের পত্রিকা
প্রকাশ: ৩ মাস আগে

নিজস্ব প্রতিবেদক, লক্ষ্মীপুর : দূর প্রবাসে, তাও গভীর রাতে—তাই প্রথম সন্তানের জন্মের খবরটি সঙ্গে সঙ্গে জানা হয়নি রুবেল হোসেনের। তবে কয়েক ঘণ্টা পর হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো একটি বার্তা দেখে ঘুম ভাঙতেই ফোন করেন তিনি। মুহূর্তেই বদলে যায় সব ক্লান্তি—বাবা হওয়ার আনন্দে ভেসে যান তিনি। ছেলের জন্ম উপলক্ষে দেশে দোয়ার আয়োজন করবেন, পাশাপাশি প্রবাসেও মিলাদ করার ইচ্ছার কথাও জানান।

মঙ্গলবার পহেলা বৈশাখের প্রথম প্রহরে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে জন্ম নেয় একটি পুত্রশিশু। সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইপ্রবাসী রুবেল হোসেন ও ছুমাইয়া আক্তার দম্পতির এটি প্রথম সন্তান। তাঁদের বাড়ি লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার যাদৈয়া গ্রামে, খোনার বাড়ি এলাকায় তাঁদের বসবাস।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ভোরে প্রসববেদনা শুরু হলে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত সিএনজিচালিত অটোরিকশাযোগে ছুমাইয়া আক্তারকে হাসপাতালে নিয়ে যান। সকাল ৭টা ৩৫ মিনিটে হাসপাতালে ভর্তি করার পর সকাল ৮টা ১০ মিনিটে স্বাভাবিক প্রসবে শিশুটির জন্ম হয়।

তিন বছরের দাম্পত্য জীবনে প্রথম সন্তানের জন্মে আনন্দিত মা ছুমাইয়া আক্তার। তিনি বলেন, ‘বাংলা নববর্ষের প্রথম দিনে আমার সন্তানের জন্ম হয়েছে, এটা আমার জন্য অনেক আনন্দের। সবার কাছে দোয়া চাই।’

হাসপাতালে শিশুটির নানা বাড়ির স্বজনদের ভিড় ছিল লক্ষণীয়। নানা সেলিম বলেন, ‘সুখবর পেয়ে দ্রুত হাসপাতালে এসেছি। নাতি সুস্থ হলে প্রয়োজন হলে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করব। পরে সুন্দরভাবে নাম রাখা হবে।’ নাতির সুস্থতার জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন নানী নাছিমা আক্তারও।

শিশুটির মামি তাসলিমা বলেন, ‘বাচ্চার জন্য কিছুই আনতে পারিনি। আমরা সবাই খুব খুশি। সুস্থ হলে পরে সব নিয়ে আসব।’

লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স লক্ষ্মী রানী বলেন, পহেলা বৈশাখের প্রথম প্রহরে শিশুর জন্ম নেওয়া একটি বিশেষ আনন্দের বিষয়, যা পরিবারগুলোর জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকে।

সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক আব্দুল সালাম জানান, নববর্ষের দিনেও হাসপাতালের সেবা কার্যক্রম চালু রয়েছে। সকাল ৭টা ৩৫ মিনিটে ছুমাইয়া আক্তার হাসপাতালে ভর্তি হন এবং সকাল ৮টা ১০ মিনিটে তিনি একটি সুস্থ পুত্রসন্তানের জন্ম দেন। বর্তমানে মা ও শিশু দুজনই চিকিৎসকের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।