
বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির কারণে বায়ুমণ্ডলে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ বাড়ছে, আর এই অতিরিক্ত শক্তিই বজ্রপাতের সংখ্যা ও তীব্রতা বাড়িয়ে দিচ্ছে। ফলে দেশে বিশেষ করে মার্চ থেকে মে মাস পর্যন্ত বজ্রপাতজনিত মৃত্যু উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে।
সরকারি ও গবেষণা তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতি বছর গড়ে ২৫০–৩০০ জন মানুষ বজ্রপাতে মারা যায়। গত এক দশকে এই সংখ্যা কয়েক হাজার ছাড়িয়েছে। গ্রামাঞ্চলের কৃষক, জেলে ও খোলা মাঠে কাজ করা শ্রমিকরাই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের পাশাপাশি নির্বিচারে গাছ কাটা, খোলা জায়গায় কাজ করা এবং সচেতনতার অভাবও মৃত্যুর হার বাড়াচ্ছে। নাসা ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গবেষণায়ও বলা হয়েছে, বৈশ্বিক তাপমাত্রা ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়লে বজ্রপাত প্রায় ১০–১২ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বাংলাদেশে তাপমাত্রা ইতোমধ্যে বেড়েছে, ফলে ভবিষ্যতে বজ্রপাত আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সরকার বজ্রপাত মোকাবিলায় তালগাছ রোপণ, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং লাইটনিং অ্যারেস্টার স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব উদ্যোগ আরও ব্যাপক ও কার্যকর করা জরুরি।
তাদের মতে, দীর্ঘমেয়াদে বৃক্ষরোপণ, খোলা মাঠে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি ছাড়া এই প্রাণহানি কমানো কঠিন হবে।
