জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর জন্য তরুণদের উদ্ভাবনী সাতটি পানির প্রকল্প

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভোরের পত্রিকা
প্রকাশ: ১০ মাস আগে

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর জন্য নিরাপদ পানি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে সাতক্ষীরায় বাস্তবায়িত হয়েছে তরুণদের নেতৃত্বে সাতটি উদ্ভাবনী প্রকল্প। এসব প্রকল্প স্থানীয় তরুণদের প্রস্তাবনার ভিত্তিতে নির্বাচন করেছে সেভ দ্য চিলড্রেন, উন্নয়ন সংগঠন উত্তরণ এবং সাতক্ষীরা পৌরসভার সমন্বয়ে গঠিত তিন সদস্যের স্বাধীন জুরি বোর্ড।

বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টায় সাতক্ষীরা সদর উপজেলা ডিজিটাল কনফারেন্স রুমে আয়োজিত ‘যুব অ্যাডভোকেসি কর্মশালায়’ এই তথ্য জানানো হয়। 

ইতোমধ্যে নির্বাচিত প্রকল্পগুলো সাতক্ষীরা পৌরসভা, সদর ও আশাশুনি উপজেলায় বাস্তবায়িত হয়েছে। এর ফলে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো নিরাপদ পানির নতুন সমাধান পাচ্ছে।

এদিন কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন সদর উপজেলার ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. বদরুদ্দোজা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসার এস এম আজিজুল হক, পৌরসভার সমাজ উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমান, সহকারী মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. আবুল হোসেন, উপজেলা সমবায় অফিসার মো. করিমুল হক, উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মো. শরিফুল ইসলাম, সেভ দ্য চিলড্রেনের প্রজেক্ট ম্যানেজার নাসরীন আক্তার, প্রজেক্ট অফিসার এম এম মামশাদ ও আবু বক্কার সিদ্দিকী, উত্তরণের প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর মোহাম্মদ আলী, ইয়ুথ এডাপটেশন ফোরামের সহসভাপতি মো. হোসেন আলী, সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম খলিল প্রমুখ।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে নির্বাচিত সাতটি প্রকল্পের সঙ্গে সম্পৃক্ত তরুণদের হাতে সনদপত্র তুলে দেয় অতিথিরা।

এসময় উত্তরণের প্রোগ্রাম ম্যানেজার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “উপকূলীয় অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতে যে পানি সংকট তৈরি হয়েছে, তার স্থায়ী সমাধানে তরুণদের অংশগ্রহণ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাদের উদ্ভাবনী ধারণা এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বড় ভূমিকা রাখবে।”

সেভ দ্য চিলড্রেনের প্রজেক্ট ম্যানেজার নাসরীন আক্তার বলেন, “যুব নেতৃত্বে বাস্তবায়িত এই প্রকল্পগুলো দেখিয়েছে, তরুণরা চাইলে স্থানীয় সমস্যা চিহ্নিত করে টেকসই সমাধান দিতে পারে। নিরাপদ পানি ব্যবস্থাপনায় তাদের উদ্যোগ ভবিষ্যতের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।”

আয়োজকরা জানান, তরুণদের নেতৃত্বে টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা গড়ে উঠলে জলবায়ু পরিবর্তনে ঝুঁকিপূর্ণ উপকূলীয় অঞ্চলের পরিবারগুলো স্থায়ী সমাধান পাবে। তরুণদের উদ্ভাবনী ধারণা ভবিষ্যতে নিরাপদ পানি ব্যবস্থাপনায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলেও তারা আশা প্রকাশ করেন।