জনবল ও জলযান সংকটে সুন্দরবন: ৭ বর্গকিলোমিটার পাহারায় মাত্র একজন বনরক্ষী

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভোরের পত্রিকা
প্রকাশ: ৬ দিন আগে

নিজস্ব প্রতিবেদক : বিশ্বের সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ বন ও জীববৈচিত্র্যের আধার সুন্দরবন এখন অস্তিত্বের সংকটে। বন সুরক্ষায় নিয়োজিত জনবলের তীব্র সংকট এবং দ্রুতগতির জলযানের অভাবে বন অপরাধীদের দৌরাত্ম্য নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। বর্তমানে সুন্দরবনের বিশাল এলাকা পাহারার দায়িত্বে থাকা বনরক্ষীদের তথ্যমতে, প্রতি ৭ বর্গকিলোমিটার বন পাহারা দিতে হচ্ছে মাত্র একজন বনপ্রহরীকে, যা বন সুরক্ষার ক্ষেত্রে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করেছে।

জনবল সংকটে হিমশিম বন বিভাগ সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশের মোট আয়তন ৬ হাজার ১৭ বর্গকিলোমিটার। এর মধ্যে পশ্চিম সুন্দরবনের আয়তন ৩ হাজার ৫৮৭ বর্গকিলোমিটার এবং পূর্ব সুন্দরবনের ২ হাজার ৪৩০ বর্গকিলোমিটার।

খুলনা ও সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর, কয়রা ও দাকোপ উপজেলা নিয়ে গঠিত পশ্চিম বন বিভাগের ৯টি স্টেশন ও ৩১টি ফাঁড়িতে ৫১২ জন জনবল থাকার কথা থাকলেও কর্মরত আছেন মাত্র ৩২৯ জন। অন্যদিকে, পূর্ব সুন্দরবনের শরনখোলা ও চাঁদপাই রেঞ্জের ৮টি স্টেশন ও ৩০টি ক্যাম্পের ৫১৬টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ৩৫০ জন। জনবলের এই ঘাটতি বন সুরক্ষায় বড় ধরনের ফাঁক তৈরি করছে।

জলযানের অভাবে ধরাছোঁয়ার বাইরে অপরাধীরা সুন্দরবনে বিষ দিয়ে মাছ শিকার, হরিণ শিকার ও নিষিদ্ধ এলাকায় প্রবেশের মতো অপরাধ নিয়ন্ত্রণে বনরক্ষীদের প্রধান অন্তরায় এখন জলযান সংকট। বর্তমানে যেসব জলযান রয়েছে, তা দীর্ঘদিনের পুরোনো এবং অধিকাংশই চলাচলের অনুপযোগী।

সাতক্ষীরা রেঞ্জের কদমতলা স্টেশন কর্মকর্তা সোলায়মান হোসেন জানান, অপরাধীদের খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে যে সময়ের প্রয়োজন হয়, ধীরগতির জলযানের কারণে ততক্ষণে তারা নিরাপদে ডাঙ্গায় পালিয়ে যায়। তিনি বলেন, “অপরাধ নিয়ন্ত্রণে প্রতিটি স্টেশনে একটি করে আধুনিক স্পিডবোট থাকা এখন সময়ের দাবি।”

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক ইমরান আহমেদ বলেন, “সুন্দরবনের মতো বিশাল এলাকা প্রতি ৭ বর্গকিলোমিটারে একজন বনরক্ষী দিয়ে পাহারা দেওয়া বাস্তবসম্মত নয়। আমাদের জলযানগুলোও এখন অনেকটা অকেজো। প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ এবং আধুনিক জলযান সরবরাহ করা গেলে বনের সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।”

সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের বন প্রহরী কল্যাণ সমিতির সভাপতি মো. মনিরুল ইসলাম জানান, জনবল বৃদ্ধির বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বারবার জানানো হয়েছে। বন রক্ষায় দ্রুত একটি আধুনিক প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন এখন জরুরি হয়ে পড়েছে।

পরিবেশবিদদের মতে, সুন্দরবন কেবল গাছপালার সমাহার নয়, এটি দেশের প্রাকৃতিক বর্ম। জনবল ও আধুনিক সরঞ্জামের অভাব দীর্ঘস্থায়ী হলে সুন্দরবনের মৎস্য ভাণ্ডার ও বন্যপ্রাণী অস্তিত্ব সংকটে পড়বে।