
মোঃ হাছানুর জামান ভূঁইয়া, নিজস্ব প্রতিবেদক:
সরকারি খালের চারটি স্থানে বাঁধ। এটি দখল করে স্থানীয় প্রভাবশালী কয়েকজন মাছ চাষ করছেন। অভিযোগ উঠেছে, এই দখলবাজির সঙ্গে আওয়ামী লীগ নেতা–কর্মীরা জড়িত।
এদিকে বাঁধ দেওয়ার কারণে খালে পানিপ্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে। মাছ চাষের কারণে গত শুকনা মৌসুমে এই খালের পানি সেচকাজে ব্যবহার করতে দেওয়া হয়নি। এখন বৃষ্টির পানিতে খালের দুই পাড়ের ফসলি জমিতে পানিতে জমে আছে।এই বাঁধের কারণে কৃষক দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।
রামগঞ্জ উপজেলার ১০নং ভাটরা ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের পাঁচরুখী নলচারা গ্রামের মধ্য দিয়ে খালটি প্রবাহিত হয়েছে। একসময়ের খরস্রোতা এই খালে বাঁধ দেওয়ায় ক্ষতির মুখে পড়েছেন খালের দুই পাড়ের শতাধিক কৃষক। খালটি দখলমুক্ত করতে কৃষকদের পক্ষে এলাকার মফিজুল ইসলাম,রুহুল আমিন, গোলাম মোস্তফা,আবুল খায়ের সহ ভুক্তভোগী কৃষক পরিবারগুলো দৈনিক ভোরের সময় পত্রিকার প্রতিনিধিকে বলেন খালটি দস্যু লোকের কবল থেকে উন্মুক্ত করার জন্য ১০নং ভাটরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যানকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
খালটির দৈর্ঘ্য দেড় কিলোমিটার এবং প্রস্থ ৩০-৩৫ ফুট। এর আয়তন প্রায় ২৯ দশমিক ৫ একর। খালের মূল শাখা ও উপশাখা (নালা) দখল করে বাঁধ দেওয়ায় পানিপ্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে। স্থানীয় কয়েকজন কৃষক অভিযোগ করেন, ১০নং ভাটরা ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জসিম মিজি মাছ চাষ শুরু করেন। গত চার বছর আগে ভাটরা ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের জমদ্দার বাড়ির ইউসুফ, আবুল হাশেম,মূল খালেই বাঁধ দেন।
গত শুক্রবার গিয়ে দেখা যায়, খালটির তিনটি স্থানে বাঁধ দিয়ে পানিপ্রবাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এটি বড় পুকুর ও ঘেরে পরিণত হয়েছে। সেখানে তেলাপিয়া, রুই, কাতলা, মৃগেলসহ দেশি প্রজাতির মাছ চাষ করা হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একজন কৃষক বলেন, খালে বাঁধ দেওয়ার কারণে এখন বর্ষার পানিতে খেতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। ঘের বানিয়ে খালে পানি ঢোকানো হচ্ছে। এ কারণে ওই সব ঘের–সংলগ্ন কৃষিজমিতে এখন চাষাবাদ করা যাচ্ছে না। প্রভাবশালীরা খাল দখল করায় তাঁরা প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে পারছেন না।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মোশারফ হোসেন মিঠু বলেন, আমন আবাদে কৃষক পানিসংকটে ভোগেন। এখন আমন মৌসুমে বৃষ্টির পানিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। জনস্বার্থে খালটি দখলমুক্ত করে উন্মুক্ত করা প্রয়োজন।
এদিকে খাল দখলের অভিযোগ অস্বীকার করে মোঃ জসিম মিজি বলেন, পাঁচরুখী নলচারা এলাকার খালটিতে দীর্ঘদিন ধরে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করা হচ্ছিল। তখন কেউ বাধা দেননি বা অভিযোগও করেননি। গত বছর তিনি মাছ চাষ শুরু পরই অভিযোগ উঠেছে। তিনিও খালের বাঁধ কেটে উন্মুক্ত করার পক্ষে।
