কারিগরি শিক্ষার প্রসারে মাধ্যমিকে সচেতনতা বাড়ানোর তাগিদ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভোরের পত্রিকা
প্রকাশ: ১ মাস আগে

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাতক্ষীরা : স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য অর্জনে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। মাধ্যমিক পর্যায় থেকেই শিক্ষার্থীদের এই শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করতে শিক্ষকদের অগ্রণী ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। গতকাল শনিবার সাতক্ষীরা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটটের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত ‘আধুনিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে কারিগরি শিক্ষার ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এ কথা বলেন।

সরকারের এ্যাসেট (ASSET) প্রকল্প ও সাতক্ষীরা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট যৌথভাবে এই সেমিনারের আয়োজন করে। এতে জেলার বিভিন্ন মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান ও সিনিয়র শিক্ষকেরা অংশ নেন।

সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) শেখ মঈনুল ইসলাম মঈন বলেন, “আমাদের তরুণ প্রজন্মকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করতে হবে। কেবল প্রথাগত শিক্ষায় সীমাবদ্ধ না থেকে মাধ্যমিক পর্যায় থেকেই শিক্ষার্থীদের কারিগরি শিক্ষার প্রতি আগ্রহী করে তুলতে হবে।”

বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে সাতক্ষীরা সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মুহাম্মদ ফেরদৌস আরেফীন বলেন, “শিক্ষার্থীদের শুধু জিপিএ-৫ পাওয়ার প্রতিযোগিতায় না নামিয়ে, তাদের বাস্তবমুখী ও প্রযুক্তিগত দক্ষতায় সমৃদ্ধ করতে হবে।”

কারিগরি শিক্ষার প্রচার ও সচেতনতা বৃদ্ধিতে জেলা শিক্ষা অফিস সব ধরনের সহায়তা দেবে বলে জানান জেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ আলমগীর কবীর।

তিনি বলেন, “শিক্ষকেরা শিক্ষার্থীদের সঠিক দিকনির্দেশনা দিলে অভিভাবক ও সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।”

অনুষ্ঠানে এ্যাসেট প্রকল্পের প্রোগ্রাম অফিসার মোঃ জাহিদুল ইসলাম প্রকল্পের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য তুলে ধরেন। সভাপতিত্ব করেন সাতক্ষীরা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ প্রকৌশলী জি. এম. আজিজুর রহমান। তিনি জানান, পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটগুলো আধুনিক ল্যাব ও সুযোগ-সুবিধা নিয়ে প্রস্তুত রয়েছে। এখন শুধু তৃণমূল পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ তৈরির অপেক্ষা।

মুক্ত আলোচনায় শিক্ষকেরা কারিগরি শিক্ষাকে আরও আকর্ষণীয় করার লক্ষ্যে উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম ছড়িয়ে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।