আবারও মেয়র হিসেবে মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফাকে চান রংপুরের অনেক বাসিন্দা

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভোরের পত্রিকা
প্রকাশ: ৫ মাস আগে

আলামীন, রংপুর : জনপ্রিয়তা, মানবিক নেতৃত্ব ও ধারাবাহিক জনসেবার মূল্যায়ন করে রংপুর–এর একটি অংশের বাসিন্দা আবারও মেয়র হিসেবে দেখতে চান মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা–কে। স্থানীয় বাসিন্দা, সামাজিক সংগঠন ও বিভিন্ন পেশাজীবী ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে এমন প্রত্যাশার কথা জানা গেছে।

নগরের জাহাজ কোম্পানি মোড় এলাকার বাসিন্দা আবদুল কাদের বলেন, “মেয়র থাকাকালে তিনি সরাসরি নাগরিকদের কথা শুনতেন। সমস্যার কথা জানালে দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করতেন।” একই ধরনের মত দিয়েছেন কলেজশিক্ষক সেলিনা পারভীন। তাঁর ভাষ্য, “দরিদ্র ও শ্রমজীবী মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতা তাঁকে আলাদা করেছে।”

স্থানীয় কয়েকটি সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা জানান, বিভিন্ন মানবিক সংকট ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় তিনি ব্যক্তিগতভাবে খোঁজখবর নিয়েছেন এবং সহায়তার উদ্যোগ নিয়েছেন। এতে সাধারণ মানুষের আস্থা বেড়েছে।

সাবেক মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে রংপুর সিটি করপোরেশন–এর বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়। নগর পরিকল্পনা বিভাগ সূত্রে জানা যায়, তাঁর সময়ে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সড়ক সংস্কার ও সম্প্রসারণ, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে কিছু প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়।

এ ছাড়া পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার, বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনা, কয়েকটি পার্ক ও উন্মুক্ত স্থানের উন্নয়ন এবং নগর সৌন্দর্যবর্ধনে উদ্যোগ নেওয়া হয়। নাগরিক সেবা সহজ করতে প্রশাসনিক তদারকি ও সমন্বয় বাড়ানো হয়েছিল বলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান।

নগরের ধাপ এলাকার ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বলেন, “আগে বর্ষায় পানি জমে থাকত। এখন পরিস্থিতি কিছুটা উন্নত হয়েছে। নিয়মিত তদারকি ছিল।”

তবে সব ক্ষেত্রে যে প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে, তা নয়—এমন মতও রয়েছে। কয়েকজন বাসিন্দা জানান, কিছু এলাকায় এখনো জলাবদ্ধতা ও সড়কের ভাঙাচোরা সমস্যা রয়ে গেছে। নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, দ্রুত বর্ধনশীল শহর হিসেবে রংপুরে টেকসই অবকাঠামো উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা জরুরি।

সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জনসম্পৃক্ত প্রশাসনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে অনেকেই মনে করেন, অভিজ্ঞ নেতৃত্ব থাকলে চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম আরও গতি পেতে পারে। স্থানীয়দের ভাষায়, “তিনি রংপুরের মাটি ও মানুষের নেতা। নগরের সমস্যা নিজের সমস্যা হিসেবে দেখেন।”

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন নির্বাচন সামনে রেখে বিভিন্ন পক্ষের অবস্থান ও জনসমর্থনের বিষয়টি সময়ই নির্ধারণ করবে।