সরকারি অনুদানের শৌচাগার বাজার ও মসজিদের ভেঙ্গে দিলো

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভোরের পত্রিকা
প্রকাশ: ৪ years ago

নিজস্ব প্রতিনিধি :

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার বামনী ইউনিয়ন পরিষদের ৪নং ওয়ার্ডে অবস্থিত ভুঁইয়ার হাট বাজার। এই বাজের রয়েছে ৭০টি দোকানপাট আরো আছে একটি মসজিদ। বাজারের মসজিদের মুসল্লী ১৫০-২০০ জন প্রায় এবং জুমা মসজিদ ও নামে পরিচিত। এই বাজারের প্রত্যেক দোকানদার ও মসজিদের মুসল্লীদের একটি শৌচাগার। মাঝে মধ্যে আশপাশের সাধারণ মানুষ জন যাওয়ার পথে এই শৌচাগারটি ব্যবহার করে।

এই শৌচাগার নির্মানের জন্য সরকারি অনুদান ছিলো ১ লক্ষ্য ৬০ হাজার টাকা। শৌচাগারটি ২০ থেকে ২৫ বছর এখানে অবস্থিত ছিলো। এই শৌচাগারের জমির মালিক ছিলেন তাহের উদ্দিন ভূঁইয়া ও মোতাহের উদ্দিন ভূঁইয়া। পরবর্তীতে মালিক পরিবর্তন হয়ে জাফর নামে এক ব্যক্তি যায়গাটি ক্রয় করেন। ক্রয় করার পর এক সপ্তাহ পরে জাফর জায়গার মালিক দাবি করে শৌচাগারটি ভেঙ্গে দেয়।

১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস। এই বিজয় দিবসের দিনে ভেঙ্গে দিলো এই শৌচাগার। বিপাকে পড়েন বাজারে লোকজন ও মসজিদের মুসল্লী। বাজার কমিটির সাবেক সভাপতি খোরশেদ আলম ভূঁইয়া বলেন, এমন অমানবিক কাজটি কি ভাবে করতে পারলো জাফর। তারতো একবার চিন্তা করার প্রয়োজন ছিলো এই বাজারের লোকজন ও মসজিদের মুসল্লী কোথাই সারবে তাদের বাথরুম। কি প্রয়োজন ছিলো এমন ভেঙ্গে দেওয়ার। শুক্রবার দিনটি ছিলো বিজয়ের দিন। আমরা সবাই ছিলাম বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত। এই ব্যস্ততার মাঝে এমন কাজটি করে দিলো কেউ আমরা জানতে পারলাম না। পরবর্তীতে জানা যায় জাফর এই কাজি করে।

স্থানীয় লোকজন বলেন, বাজার কমিটির সভাপতি হিরন এর সামনে এমন কাজটি করে। বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোসলে উদ্দিন বলেন, জাফরের এই কাজি করা উচিত হয়নি। জাফরতো একবারের জন্য হলেও আমাদেরকে জানাতে পারতো, কিন্তু সে জানায়নি। তবে আমি সভাপতিকে জিজ্ঞাসা করে ছিলাম সে আমাকে বলেছে আমার সামনে এমন কাজটি করা হয়নি।

বামনী ইউনিয়ন পরিষদের ৪নং ওয়ার্ডের মেম্বার দুলাল বলেন, এই বিষয়টি আমাকে এক পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। আমি তাদেরকে বলেছি বিষয়টি আমি দেখবো কি করা যায়।

স্থানীয় লোকজন বলেন, আমাদের মেম্বার খুব ভালো মানুষ। আমরা নিজেরাই ভোট দিয়ে মেম্বার বানিয়েছি জাতে করে আমাদের আপদবিপদে পাশে থাকে। মোসলে উদ্দিন বলেন, মেম্বার কে বলেছি মেম্বার কিছু একটা করবে।

রায়পুরের থানা ইনচার্জ বলেন, থানা অভিযোগ করলে বিষয়টি দেখবো। ওরা যদি থানা অভিযোগ করে তাহলে বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করবো।

রায়পুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, বিষয়টি কি? আমার কাছে আসলে আমি তা দেখবো ও কি? করা যায় তা ভাববো।