মতলব উত্তরে পৃথক দুটি স্থান থেকে দুই যুবকের লাশ উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভোরের পত্রিকা
প্রকাশ: ১ সপ্তাহ আগে

নিজস্ব প্রতিবেদক, মতলব উত্তর (চাঁদপুর): চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় পৃথক দুটি স্থানে দুই যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে একজন ঋণের চাপ সহ্য করতে না পেরে বিষাক্ত ট্যাবলেট সেবন করেন বলে অভিযোগ উঠেছে, অন্যজন পারিবারিক কলহের জেরে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।

শনিবার (১ আগস্ট) ঘটে যাওয়া এ দুটি ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ছেংগারচর পৌরসভার মুল্লুক মাঝিরকান্দি গ্রামের ছলু সরকারের ছেলে স্বাধীন (২৫) গত শুক্রবার দুপুরে ঋণের চাপে সবার অজান্তে গ্রামের একটি পরিত্যক্ত গরুর খামারে বিষজাতীয় ট্যাবলেট সেবন করেন। পরে তিনি ভয়েস কলে তার বন্ধু আশরাফুলকে ঋণ পরিশোধ করে দেওয়ার অনুরোধ জানান।

খবর পেয়ে আশরাফুল ও সৈকত ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকায় রেফার করা হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের স্ত্রী আয়েশা, বাবা ছলু সরকার ও স্বজনরা পুলিশকে জানিয়েছেন, এ ঘটনায় তাদের কারও বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ বা সন্দেহ নেই এবং বিনা ময়নাতদন্তে দাফনের আবেদন করেছেন।

পারিবারিক কলহে যুবকের আত্মহত্যা এদিকে, একই দিন রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টায় উপজেলার দিগলীপাড় প্রধান বাড়ি এলাকায় নিজ বাড়ির পাশের একটি আমগাছে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় সাব্বির হোসেন (২৫) নামের আরেক যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়। তিনি নূর মোহাম্মদের ছেলে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, স্ত্রীর সঙ্গে দাম্পত্য কলহ এবং স্ত্রী অন্যত্র চলে যাওয়ার ঘটনায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন সাব্বির। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সেই ক্ষোভ ও হতাশা থেকেই তিনি এই পথ বেছে নিয়েছেন।

মতলব উত্তর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ কামরুল হাসান বলেন, দুটি মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে উভয় ঘটনাই আত্মহত্যা বলে প্রতীয়মান হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে কারও বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবুও প্রতিটি ঘটনা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, যেকোনো ধরনের পারিবারিক, সামাজিক বা মানসিক সংকটে হতাশ না হয়ে পরিবারের সদস্য, স্বজন কিংবা সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলা প্রয়োজন। জীবন অমূল্য, যেকোনো সংকটের সমাধান রয়েছে।