কমলনগরে ‘ভূতুড়ে’ বিদ্যুৎ বিলে অতিষ্ঠ গ্রাহক, ক্ষোভের মুখে কর্তৃপক্ষ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভোরের পত্রিকা
প্রকাশ: ২ সপ্তাহ আগে

নিজস্ব প্রতিবেদক : লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায় পল্লী বিদ্যুতের অস্বাভাবিক বা কথিত ‘ভূতুড়ে’ বিলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন গ্রাহকেরা। এ মাসে স্বাভাবিকের তুলনায় বিল দ্বিগুণ বা তিন গুণ আসায় ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। ভুক্তভোগী গ্রাহকেরা বিলের কপি প্রকাশ করে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন এবং দ্রুত তদন্ত ও সমাধানের দাবি তুলেছেন।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণ অপরিবর্তিত থাকলেও আগের মাসের তুলনায় এবার আকাশচোঁয়া বিল এসেছে। নিয়মিত লোডশেডিংয়ের মধ্যেও এমন অস্বাভাবিক বিল আসার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা। মিটার রিডিংয়ে অসঙ্গতি ও গড় বিল তৈরিরও অভিযোগ তুলেছেন অনেকে।

উপজেলা পল্লী বিদ্যুৎ অফিস সূত্রে জানা গেছে, কমলনগরে প্রায় ৬১ হাজার বিদ্যুৎ গ্রাহক রয়েছেন। অধিকাংশ গ্রাহকের বিলে বড় ধরনের অসংগতি দেখা দেওয়ায় গত তিন দিন ধরে তীব্র অসন্তোষ চলছে।

ভুক্তভোগী গ্রাহকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আলাউদ্দিন নামের এক গ্রাহকের মে মাসের বিল ছিল ৬৭৭ টাকা, যা জুন মাসে এসে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৩৭৭ টাকায়। একইভাবে আদনান শরীফের গত মাসের বিল ১ হাজার ৫০০ টাকার স্থলে এ মাসে এসেছে ৭ হাজার ১৯০ টাকা। এছাড়া বেলাল হোসেনের ৩০০ টাকার স্থলে ১ হাজার ৭০০ টাকা, মোস্তাফিজুর রহমানের ৫০০ টাকার স্থলে ১ হাজার ৫০০ টাকা এবং আওলাদ হোসেনের ৪৫০ টাকার স্থলে ১ হাজার ৮০০ টাকা বিল এসেছে।

গ্রাহকদের অভিযোগ, অতিরিক্ত বিলের বিষয়ে অভিযোগ জানাতে গিয়ে তাঁরা যথাযথ সেবা পাচ্ছেন না, উল্টো হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। ফলে বিদ্যুৎ কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে গ্রাহকদের বাকবিতণ্ডার ঘটনাও ঘটছে। এতে সাধারণ নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো দিশেহারা হয়ে পড়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কমলনগর জোনাল অফিসের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মো. রাশেদুল ইসলাম বলেন, “কোনো কোনো ক্ষেত্রে মিটার রিডিংয়ের ভুল বা সমন্বয়ের কারণে বিল বেশি আসতে পারে। অভিযোগ পেলে তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় সংশোধন করা হবে।”

গ্রাহকদের বিলের সঙ্গে মিটার রিডিং মিলিয়ে দেখার পরামর্শ দিয়ে তিনি আরও বলেন, “এ নিয়ে এত হইচই করার মানে হয় না।”

তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, কর্তৃপক্ষের এই উদাসীনতা ও অসংবেদনশীল মনোভাব ক্ষোভ আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। তারা অবিলম্বে ভুতুড়ে বিল সংশোধন করে সঠিক মিটার রিডিং অনুযায়ী নতুন বিল তৈরির দাবি জানিয়েছেন।