
নাজমুল হোসেন : লক্ষ্মীপুরে অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য দিনব্যাপী বিনামূল্যে চক্ষু পরীক্ষা ও চিকিৎসাসেবা ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে। বদিউজ্জামান শিক্ষা ও সেবা কেন্দ্রের আয়োজনে এবং লায়ন্স ক্লাব অব ঢাকা লক্ষ্মীপুরের তত্ত্বাবধানে এই স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
শনিবার খিলবাইছা এলাকায় অবস্থিত বদিউজ্জামান শিক্ষা ও সেবা কেন্দ্রে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। ক্যাম্পে দুই শতাধিক রোগীকে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়। প্রাথমিক বাছাইয়ের মাধ্যমে তাদের মধ্যে শতাধিক রোগীকে বিনামূল্যে ছানি অপারেশনের জন্য নির্বাচন করা হয়েছে।
সকাল ১১টায় ক্যাম্পের উদ্বোধন করেন লক্ষ্মীপুর-২ (রায়পুর) আসনের সংসদ সদস্য আবুল খায়ের ভূঁইয়া। পরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বদিউজ্জামান ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান লেফটেন্যান্ট কর্নেল রুহুল আমিন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যারা ছানি অপারেশনের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন, তাদের অস্ত্রোপচারের যাবতীয় ব্যয়ভার বদিউজ্জামান শিক্ষা ও সেবা কেন্দ্র বহন করবে।
ক্যাম্পে চিকিৎসা প্রদান করেন লায়ন চক্ষু হাসপাতাল, ঢাকার চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. তুষার কর্মকার।
চিকিৎসা নিতে আসা স্থানীয় বাসিন্দা শিউলি আক্তার বলেন, ‘দরিদ্র মানুষের জন্য এমন বিনা মূল্যের চিকিৎসাসেবা অনেক বড় প্রাপ্তি। এ ধরনের উদ্যোগ নিয়মিত হলে এলাকার সাধারণ মানুষ খুব উপকৃত হয়।’
বদিউজ্জামান শিক্ষা ও সেবা কেন্দ্রের পরিচালক ও সাবেক অতিরিক্ত পরিচালক (এনএসআই) শামসুল আমিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রের সভাপতি ডা. মো. নজরুল ইসলাম পরান, লায়ন্স ক্লাব অব ঢাকা লক্ষ্মীপুরের ফাউন্ডার প্রেসিডেন্ট লায়ন ইঞ্জিনিয়ার কাজী জহুরউদ্দীন, ক্লাব অ্যাডমিনিস্ট্রেটর লায়ন ইঞ্জিনিয়ার কাজী নিজামউদ্দিনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
আয়োজক সূত্রে জানা যায়, শুধু চক্ষু পরীক্ষা নয়, রোগীদের প্রয়োজনীয় চোখের ড্রপ ও প্রাথমিক ওষুধও বিনামূল্যে সরবরাহ করা হয়েছে।
বদিউজ্জামান শিক্ষা ও সেবা কেন্দ্রের পরিচালক শামসুল আমিন বলেন, ‘২০০০ সালে পারিবারিক অর্থায়নে এই কেন্দ্রটি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই আমরা মানুষের কল্যাণে কাজ করছি। এখানে নিয়মিত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসাসেবা, আরবি শিক্ষা, ইংরেজি স্পোকেন কোর্সসহ বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। আমরা এ গ্রামের সন্তান, তাই এলাকার মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই এই সেবামূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। ভবিষ্যতেও শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় এ ধারা অব্যাহত থাকবে।’
