ঈদে লক্ষ্মীপুরের অসহায় পরিবারকে ১০ লাখ টাকার সহায়তা

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভোরের পত্রিকা
প্রকাশ: ২ মাস আগে

নাজমুল হোসেন : পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে লক্ষ্মীপুরের ছয়টি উপজেলার অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের মধ্যে নগদ ১০ লাখ টাকার মানবিক সহায়তা বিতরণ করা হয়েছে।

সোমবার দুপুরে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলের অর্থ উপকারভোগীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ঈদকে সামনে রেখে আর্থিক সংকটে থাকা পরিবারের সদস্যদের সহায়তার জন্য এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জেলার বিভিন্ন উপজেলার নির্বাচিত উপকারভোগীদের মধ্যে নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর মহিলা বিভাগের সহকারী সেক্রেটারি মারজিয়া বেগম। তিনি উপকারভোগীদের হাতে নগদ অর্থ তুলে দেন।

লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ক্যাথোয়াইপ্রু মারমা-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এস ইউ এম রুহুল আমিন ভূঁইয়া, এ আর হাফিজ উল্লাহ, ওয়ারেছা আমিন, আবুল ফারাহ নিশান, ফজলুল করিমসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

বিতরণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে মারজিয়া বেগম বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য যে সহায়তা দেওয়া হয়েছে, তা যথাযথভাবে প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছি। মানুষের হক যেন মানুষের কাছেই পৌঁছে যায়, সেটিই আমাদের মূল দায়িত্ব।”

তিনি বলেন, “লক্ষ্মীপুরের প্রায় ২০ লাখ মানুষের মধ্যে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের সংখ্যা কম নয়। সেই তুলনায় এই বরাদ্দ খুবই সীমিত। তারপরও স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে বিতরণ নিশ্চিত করা গেলে অন্তত কিছু পরিবার উপকৃত হবে।”

তিনি আরও বলেন, “ভবিষ্যতে কেউ যাতে গরিব মানুষের অধিকার নিয়ে অনিয়ম করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে আমরা বদ্ধপরিকর।”

অনুষ্ঠানে সহায়তা পাওয়া কয়েকজন উপকারভোগী বলেন, ঈদকে সামনে রেখে এই আর্থিক সহায়তা তাঁদের জন্য কিছুটা স্বস্তি এনে দিয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধির কারণে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এ অবস্থায় সরকারের এ সহায়তা ঈদের প্রস্তুতিতে কাজে লাগবে।

জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, সামাজিক নিরাপত্তা ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে অসহায় ও দুস্থ পরিবারের পাশে দাঁড়াতে এ ধরনের কর্মসূচি ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।