
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি : সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে সড়ক দুর্ঘটনায় লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার উত্তর হামছাদী এলাকার দুই প্রবাসী বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। নিহত ব্যক্তিরা হলেন হারুন ও তাঁর প্রতিবেশী রাসেল। তাঁদের মৃত্যুর খবরে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, জীবিকার তাগিদে দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে অবস্থান করছিলেন হারুন ও রাসেল। গত রাতে রিয়াদের একটি সড়কে মোটরসাইকেলে করে যাওয়ার সময় হঠাৎ একটি উটের সঙ্গে তাঁদের মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ হয়। এতে তাঁরা গুরুতর আহত হন।
পরে স্থানীয় লোকজন তাঁদের উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতদের স্বজনেরা জানান, পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা ফেরাতে এবং স্বপ্ন পূরণের আশায় বিদেশে পাড়ি জমিয়েছিলেন তাঁরা। কিন্তু জীবিকার সন্ধানে যাওয়া সেই দুই তরুণের মরদেহ এখন দেশে ফিরবে—এমন খবর পরিবারগুলোর জন্য মেনে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
নিহত হারুনের বাবা তছলিম উদ্দীন ছৈয়াল কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার ছেলে বিদেশে গিয়ে আমাদের স্বপ্ন পূরণের চেষ্টা করছিল। আজ সে লাশ হয়ে ফিরবে—এটা আমরা কখনো কল্পনাও করিনি। আমরা সরকারের কাছে অনুরোধ জানাই, যেন দ্রুত মরদেহ দেশে আনার ব্যবস্থা করা হয়।”
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, হারুন ও রাসেল ছিলেন প্রতিবেশী এবং দীর্ঘদিনের বন্ধু। তাঁদের আকস্মিক মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে। নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দিতে আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীরা বাড়িতে ভিড় করছেন।
লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ক্যাথোয়াইপ্রু মারমা নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে বলেন, “প্রবাসী দুই যুবকের মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখজনক। তাঁদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা এবং পরিবারের সদস্যদের প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
তিনি আরও বলেন, মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। পাশাপাশি সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী নিহতদের পরিবারের জন্য সম্ভাব্য সহায়তা নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসন প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে।
এদিকে, প্রবাসী দুই যুবকের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে উত্তর হামছাদী এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। স্বজন ও এলাকাবাসীর একটাই দাবি—যত দ্রুত সম্ভব মরদেহ দেশে ফিরিয়ে এনে তাঁদের শেষ বিদায়ের ব্যবস্থা করা হোক।
