লেবাননে ড্রোন হামলায় সাতক্ষীরার তিন প্রবাসীর মৃত্যু, পরিবারে শোকের মাতম

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভোরের পত্রিকা
প্রকাশ: ২ মাস আগে

সিরাজুল ইসলাম : সংসারের অভাব ঘোচাতে বিদেশ পাড়ি দিয়ে প্রাণ হারালেন সাতক্ষীরার তিন প্রবাসী। লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের নাবাতিয়ের এলাকায় সোমবার (তারিখ উল্লেখিত) দুপুরে ইসরায়েলের ড্রোন হামলায় তারা নিহত হন বলে জানা গেছে।

নিহতরা হলেন সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ধুলিহর ইউনিয়নের ভালুকা চাঁদপুর গ্রামের শফিকুল ইসলাম (৪০), কলারোয়া উপজেলার শ্রীপ্রতিপুর গ্রামের শুভ কুমার দাস (২৮) এবং আশাশুনি উপজেলার কাদাকাটি ইউনিয়নের নাহিদুল ইসলাম (২২)।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুই মাস আগে ঋণের টাকা ও সরকারি ভিসায় জীবিকার তাগিদে লেবাননে যান তারা। কেউ ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি, কেউবা ছিলেন শিক্ষাজীবন শেষ না করেই বিদেশগামী।

শফিকুল ইসলামের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো পরিবেশ। স্ত্রী রুমা খাতুন বারবার জ্ঞান হারাচ্ছেন। মা আছিয়া বেগম শোকে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। তিনি বলেন, “ছেলে ১০ লাখ টাকা ঋণ করে বিদেশে গিয়েছিল। এখন সেই ঋণ শোধ করব কীভাবে, আর লাশই বা কীভাবে আনব—কিছুই বুঝতে পারছি না।”

নিহতের বাবা আফসার আলী বলেন, অভাব ঘোচাতে ছেলেটি বিদেশে গিয়েছিল, কিন্তু ভাগ্য তাকে ফিরতে দিল না। এখন পরিবার দিশেহারা।

নাহিদুল ইসলামের পরিবার জানায়, এসএসসি পাসের পর সংসারের টানে আর পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারেনি সে। জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশন থেকে ঋণ নিয়ে লেবাননে যায়।

অন্যদিকে শুভ কুমার দাস প্রায় তিন বছর ধরে লেবাননে কাজ করছিলেন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী হিসেবে তার ওপর নির্ভরশীল ছিল পুরো সংসার।

নিহতদের পরিবার দ্রুত মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন।

সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অর্ণব দত্ত বলেন, নিহতদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রবাসীকল্যাণ ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং প্রশাসন সর্বোচ্চ সহায়তা দেবে।

এদিকে লেবাননে বাংলাদেশি নাগরিক নিহতের ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে শোক প্রকাশ করে জানায়, দূতাবাস স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার কাজ করছে।