তাপপ্রবাহ শেষে টানা বৃষ্টির আভাস, উত্তর-পূর্বে আকস্মিক বন্যার শঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভোরের পত্রিকা
প্রকাশ: ৩ মাস আগে

নিজস্ব প্রতিবেদক : এপ্রিলজুড়ে চলা তাপপ্রবাহ শেষে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে টানা বৃষ্টির আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সোমবার (২৭ এপ্রিল) থেকে শুরু হয়ে মে মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি হতে পারে। বিশেষ করে সিলেট, রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগে ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এতে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় আকস্মিক বন্যার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

আবহাওয়া অফিস জানায়, এ মাসের ২০ এপ্রিল শুরু হওয়া মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ শনিবার শেষ হয়েছে। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে রাজশাহীতে, ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের মহাকাশ পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, সিলেট, রংপুর, ময়মনসিংহ, ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়তে পারে। একই সঙ্গে কালবৈশাখী ঝড় ও বজ্রপাতের আশঙ্কাও রয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ ড. আবুল কালাম মল্লিক বলেন, রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে প্রথমে বজ্রমেঘের ঘনঘটা বাড়বে। পরে তা দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও বিস্তৃত হতে পারে। আগামী কয়েক দিনে দেশের অভ্যন্তরে ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, ভারি বৃষ্টির সঙ্গে উজান থেকে নেমে আসা পানির প্রবাহ বাড়লে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি নদীর পানি দ্রুত বাড়তে পারে। সারিগোয়াইন, যাদুকাটা, মনু, খোয়াই ও কংস নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এতে সুনামগঞ্জ, সিলেট, নেত্রকোনা, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জেলায় আকস্মিক বন্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে হাওরাঞ্চলে পানি ঢুকে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।

বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্রের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী পার্থ প্রতীম বড়ুয়া বলেন, ভারি বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে হাওরে পানি প্রবেশ করে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। মেঘালয় অঞ্চলে বেশি বৃষ্টিপাত হলে তার প্রভাব দ্রুত ভাটিতে পড়বে।

২০১৭ সালের এপ্রিলের শুরুতে আকস্মিক বন্যায় হাওরাঞ্চলে ব্যাপক ফসলহানি হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতার আলোকে এবার আগাম সতর্কতা হিসেবে ধান দ্রুত কেটে ঘরে তোলার পরামর্শ দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।