বাংলাদেশে পাইপলাইনে ভারত থেকে আরও ৭ হাজার টন ডিজেল এসেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভোরের পত্রিকা
প্রকাশ: ৩ মাস আগে

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা : বাংলাদেশ-ভারত ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইনের মাধ্যমে ভারত থেকে আরও ৭ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল দেশে এসেছে। আসামের নুমালিগড় রিফাইনারি লিমিটেড থেকে সরবরাহকৃত এই চালানটি দিনাজপুরের পার্বতীপুর রেলহেড অয়েল ডিপোতে পৌঁছায়।

বৃহস্পতিবার দুপুরে এ চালানের সরবরাহ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। এর আগে সোমবার রাত সাড়ে ৮টা থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে ডিজেল সরবরাহ শুরু হয়।

মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের ম্যানেজার (অপারেশন্স) কাজী মো. রবিউল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, চলতি এপ্রিল মাসে এখন পর্যন্ত তিনটি চালানে মোট ২০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল দেশে এসেছে। এর মধ্যে ১১ এপ্রিল ৮ হাজার, ১৯ এপ্রিল ৫ হাজার এবং ২৩ এপ্রিল ৭ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল সরবরাহ করা হয়। এ ছাড়া আগামী ২৬ বা ২৭ এপ্রিল আরও ৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পুরো এপ্রিল মাসে চারটি চালানের মাধ্যমে প্রায় ৪০ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি তেল আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে। এর আগে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত চারটি চালানে মোট ২২ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আমদানি করা হয়। ফলে এ বছর এখন পর্যন্ত পাইপলাইনের মাধ্যমে মোট ৪২ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল দেশে এসেছে।

পার্বতীপুর রিসিপ্ট টার্মিনাল থেকে এসব জ্বালানি তেল পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা—এই তিনটি বিপণন কোম্পানির ডিপোতে সরবরাহ করা হয়।

সংশ্লিষ্টরা জানান, উত্তরাঞ্চলে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে পাইপলাইনের মাধ্যমে সরাসরি ডিজেল আমদানি করা হচ্ছে। ২০১৮ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর দুই দেশের মধ্যে চুক্তির মাধ্যমে ১৩১ দশমিক ৫৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পাইপলাইনের নির্মাণ শুরু হয়। ২০২৩ সালের ১৮ মার্চ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এর মাধ্যমে জ্বালানি আমদানি শুরু হয়।

চুক্তি অনুযায়ী, ভারত আগামী ১৫ বছর বাংলাদেশে ডিজেল সরবরাহ করবে। বছরে ২ থেকে ৩ লাখ টন জ্বালানি আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে, যা প্রয়োজন অনুযায়ী আরও বাড়ানো সম্ভব। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই পাইপলাইনের মাধ্যমে বছরে সর্বোচ্চ ১০ লাখ মেট্রিক টন তেল পরিবহনের সক্ষমতা রয়েছে।

এতে উত্তরাঞ্চলে জ্বালানি পরিবহন সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে। আগে যেখানে খুলনা বা চট্টগ্রাম থেকে রেলপথে তেল পৌঁছাতে ৬ থেকে ৭ দিন লাগত, এখন তা দ্রুততম সময়ে সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে।