অবৈধ ড্রেজিংয়ে মেঘনা নদীর তীর রক্ষা বাঁধে প্রায় এক কিলোমিটার ধস, জনপদ ঝুঁকিতে

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভোরের পত্রিকা
প্রকাশ: ৩ মাস আগে

চাঁদপুর প্রতিনিধি | হাইমচর : চাঁদপুরের মেঘনা নদীতে অবৈধ ড্রেজিং মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলনের কারণে নদীতীর সংরক্ষণ বাঁধের প্রায় এক হাজার মিটার এলাকা ধসে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে চাঁদপুর সেচ প্রকল্পের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ জনপদ চরম ঝুঁকিতে পড়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলার গাজীনগর এলাকায় গত কয়েক দিনে এ ধসের ঘটনা ঘটে। অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে নদীর তীরবর্তী ফসলি জমি ও সিসি ব্লকযুক্ত বাঁধ অংশ ভেঙে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্র জানায়, ধসে পড়া এলাকায় সাময়িকভাবে সিসি ব্লক ডাম্পিং করা হয়েছে। তবে স্থানীয়রা বলছেন, এটি কোনো স্থায়ী সমাধান নয়। বর্ষা মৌসুম সামনে থাকায় তীব্র স্রোতে আরও ভাঙনের আশঙ্কা করছেন তারা।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এক সময় ওই এলাকায় বিস্তীর্ণ বালুর মাঠ ও ফসলি জমি ছিল। কিন্তু রাতের আঁধারে ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে বালু উত্তোলনের কারণে এখন সেখানে গভীর গর্ত সৃষ্টি হয়ে জলাশয়ে পরিণত হয়েছে। তাদের অভিযোগ, কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়—অবৈধ বালু উত্তোলনই এই ক্ষতির মূল কারণ।

হাইমচরের বিশিষ্টজন খোরশেদ আলম কোতোয়াল বলেন, “মেঘনার তীব্র ভাঙনের কারণে একসময় এই জনপদ সংকুচিত হয়ে আসছিল। ২০০৩ সাল থেকে কয়েক দফায় চাঁদপুর সেচ প্রকল্প ও নদীতীর সংরক্ষণ বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে তা রক্ষা করা হয়েছিল। এখন আবার সেই জনপদ বড় ঝুঁকিতে পড়েছে।”

তিনি দ্রুত সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

অন্যদিকে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম সফিক দাবি করেন, উন্নয়নমূলক কাজকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে একটি মহল অবৈধভাবে ড্রেজিং চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “নদীতীর ধসে পড়ার খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ চলছে। আপৎকালীন ব্যবস্থা হিসেবে সিসি ব্লক ফেলা হয়েছে।”

এদিকে অবৈধ বালু উত্তোলন ও বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত করার অভিযোগে হাইমচরের কাদের গাজীর ছেলে মনির হোসেন জুয়েলকে প্রধান আসামি করে মামলা হয়েছে। পুলিশ এখন পর্যন্ত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে বলে জানিয়েছে হাইমচর থানা পুলিশ। প্রধান আসামি পলাতক রয়েছেন।