লক্ষ্মীপুরে ১৪৪ ধারা ভেঙে সংঘর্ষ, ওসিসহ আহত অন্তত ১৫

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভোরের পত্রিকা
প্রকাশ: ৪ মাস আগে

নাজমুল হোসেন, নিজস্ব প্রতিবেদক : লক্ষ্মীপুর শহরে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওয়াহিদ পারভেজসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।

রোববার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শহরের চকবাজার মসজিদের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

সংঘর্ষের সময় এলাকাজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং আতঙ্কে ব্যবসায়ীরা দোকানপাট বন্ধ করে দেন।

পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাতে শহরের হাসপাতাল রোড এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মী হাবিবুর রহমান ফাহিম ও জেলা ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদক আকবর হোসেন মুন্নার মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।

এর প্রতিবাদে রোববার বিকেল ৫টায় চকবাজার মসজিদের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দেয় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। একই সময় ‘জুলাই ফাইটার্স’ ব্যানারে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরাও সমাবেশের ঘোষণা দেন।

এ পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য সংঘর্ষ এড়াতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ক্যাথোয়াইপ্রু মারমা বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে লক্ষ্মীপুর পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেন। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ আদেশ বহাল থাকবে বলে জানানো হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে উভয় পক্ষের নেতাকর্মীরা চকবাজার এলাকায় জড়ো হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে ওসি ওয়াহিদ পারভেজসহ অন্তত ১৫ জন আহত হন।

ঘটনার সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখ্য সংগঠক সাইফুল ইসলাম মুরাদসহ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা দাবি করলেও পুলিশ তা নিশ্চিত করেনি।

বিকেল থেকে ঘটনাস্থলে অবস্থান করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী।

তিনি বলেন, “দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচির কারণে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার আশঙ্কায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুই পক্ষকে সরিয়ে দিয়েছি। ওসিসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন, তবে কাউকে আটক করা হয়নি।”

জেলা ছাত্রদলের সভাপতি হাসান মাহমুদ ইব্রাহিম বলেন, “এখানে ছাত্রদলের কোনো কর্মসূচি ছিল না। জুলাই ফাইটার্সের প্রোগ্রাম ছিল। এ বিষয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না।”

অন্যদিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা সদস্য সচিব শাহেদুর রহমান রাফির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।