লক্ষ্মীপুরে অবৈধ ভোটের সিল উদ্ধারের দাবি, জামায়াতের বিরুদ্ধে ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর অভিযোগ বিএনপির

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভোরের পত্রিকা
প্রকাশ: ৬ মাস আগে

নাজমুল হোসেন : লক্ষ্মীপুরে একটি প্রিন্টার্সের দোকান থেকে অবৈধভাবে প্রস্তুত করা ভোটের সিল উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে জালিয়াতি ও ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর অভিযোগ করেছে বিএনপি। এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং সারা দেশে এ ধরনের কার্যক্রম ঠেকাতে প্রশাসনের কঠোর নজরদারির দাবি জানিয়েছে দলটি।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) রাত ৮টার দিকে লক্ষ্মীপুর শহরের গোডাউন রোড এলাকায় লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) আসনের বিএনপির প্রধান নির্বাচনী কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের প্রার্থী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। তিনি বলেন, একটি প্রিন্টার্স থেকে ১৬ ঘরবিশিষ্ট ভোটের ছয়টি সিল ও একটি কম্পিউটারসহ সোহেল রানা নামে এক ব্যক্তিকে পুলিশ আটক করেছে। বিএনপির দাবি অনুযায়ী, আটক ব্যক্তি জামায়াতে ইসলামীর কর্মী।

শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, “এই সিলগুলো কারা তৈরি করেছে, কারা এর পেছনে রয়েছে—তা তদন্ত করে বের করা জরুরি। এটি একটি পরিকল্পিত ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অংশ। শুধু সিল নয়, ব্যালট তৈরির ঘটনাও ঘটতে পারে। প্রশাসনকে আগেভাগেই সতর্ক হতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, সিল তৈরির পেছনে কার ইন্ধন রয়েছে, কোন প্রার্থী বা রাজনৈতিক নেতা জড়িত—তা খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে যেন জাল ভোট দিতে না পারে, সে জন্য নির্বাচন কমিশন ও সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।

বিএনপির এ নেতা অভিযোগ করেন, শুধু লক্ষ্মীপুর নয়, সারা দেশেই বিভিন্ন প্রিন্টিং প্রেস ও কারখানায় অবৈধভাবে সিল ও ব্যালট প্রস্তুতের ষড়যন্ত্র চলছে।

সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, “সম্প্রতি জামায়াত জাল ভোট দেওয়ার উদ্দেশ্যে বিপুলসংখ্যক বোরকা অর্ডার দিয়েছে বলে আমরা অভিযোগ করছি। আজ মারইয়াম প্রিন্টার্স থেকে সিল উদ্ধারের ঘটনা প্রমাণ করে, কীভাবে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করা হয়। বোরকার ভেতরে সিলকৃত ব্যালট বহনের মতো পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা চলছে।”

সংবাদ সম্মেলনে জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হাছিবুর রহমান, লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের নির্বাচনের প্রধান সমন্বয়ক ওয়াহিদ উদ্দিন চৌধুরী হ্যাপী, বিএনপি নেতা হাফিজুর রহমান, সদর (পূর্ব) উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাঈন উদ্দিন চৌধুরী রিয়াজ, চন্দ্রগঞ্জ থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম ইউছুফ ভূঁইয়াসহ স্থানীয় বিএনপির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় নেতাদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের পাওয়া যায়নি।