
জলবায়ু পরিবর্তন, জোয়ার-ভাটা ও অরক্ষিত বাঁধে বিপন্ন হচ্ছে স্বাস্থ্য, খাদ্য ও বসতি
সিরাজুল ইসলাম : দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলের মানুষ জলবায়ুর বিরূপ প্রভাবে বহুমাত্রিক সংকটে পড়েছে। স্বাস্থ্য, খাদ্য, বিশুদ্ধ পানীয় জল, যাতায়াত ও নিরাপত্তাহীনতা—সবই তাদের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে জড়িত হয়ে উঠেছে।
সাম্প্রতিক ঘূর্ণিঝড় ‘রেমাল’ প্রমাণ করেছে, সমুদ্র উপকূলে মানুষের ঘরবাড়ি, পশুপাখি ও মাছসহ গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ নষ্ট হচ্ছে। নদীর অতিমাত্রায় জোয়ার-ভাটার কারণে প্রতিদিন নতুন সংকট তৈরি হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩৯টি পোল্ডার নির্মাণ ও ১,৫৫৬ কিলোমিটার বাঁধ ও ২৮২টি স্লুইসগেটের কারণে নদীগুলো স্থায়ীভাবে প্লাবনভূমি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ফলে নদীভাঙন, জলাবদ্ধতা ও টেকসই চাষপ্রথার ক্ষতি হচ্ছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, উপকূলীয় অঞ্চলের ২২.৪৮ শতাংশ মানুষ বিষণ্নতায় ভুগছে এবং ৪৩.৯৫ শতাংশ মানুষ ভালো ঘুম পাচ্ছে না। খুলনার শ্যামনগর এলাকায় এই সমীক্ষা চালানো হয়েছে। ড. আইনুন নিশাত বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তন মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যেও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলছে।”
স্থানীয়রা জানান, আষাঢ়-শ্রাবণ মাসে ঘরে পানি ঢুকে রান্নাবান্না বন্ধ হয়ে যায়। শরণখোলা উপজেলার বগী এলাকায় আশির্ধ্বো জয়নব বিবি বলেন, “হালকা বাতাসে রাত জেগে বসতে হয়। কখন বেড়িবাঁধ ভেঙে যাবে কেউ জানে না।”
সরকারি উদ্যোগে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ২০১৫ সালে শুরু হওয়া সিইআইপি প্রকল্প এখনও সম্পূর্ণ হয়নি। বাঁধের মধ্যে ফাটল দেখা দেওয়ায় উপকূলীয় মানুষ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। বাগেরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মাসুম বিল্লাহ জানান, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ৩৫ হাজার জিও ব্যাগ ও ১০ হাজার সিনথেটিক ব্যাগ প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সমুদ্র তীরবর্তী এলাকায় টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ ছাড়া উপকূলীয় মানুষের দুর্ভোগ শেষ হবে না। নেদারল্যান্ডস ও অন্যান্য দেশ যেমন আধুনিক হাইড্রোলজি প্রযুক্তি ব্যবহার করে টেকসই বাঁধ নির্মাণ করেছে, বাংলাদেশেও তার বিকল্প নেই।
উপকূলীয় মানুষ বলছেন, “আমরা ত্রাণ চাই না, টেকসই বেড়িবাঁধ চাই।”
