লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি-কমলনগর) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী শরাফ উদ্দীন আজাদ সোহেল: রাজনৈতিক উত্তাপ বৃদ্ধি

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভোরের পত্রিকা
প্রকাশ: ৭ মাস আগে

নাজমুল হোসনে, নিজস্ব প্রতিবেদক : জুলাই আন্দোলনের ছাত্র-জনতা ও সাধারণ ভোটারদের উদ্বেগ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি-কমলনগর) আসনে রামগতি উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শরাফ উদ্দীন আজাদ সোহেল স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে স্থানীয় জুলাই আন্দোলনের ছাত্র-জনতা ও সাধারণ ভোটারদের মধ্যে প্রশ্ন ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

জুলাই মঞ্চের যুগ্ম আহ্বায়ক ও ছাত্রনেতা আব্দুস সোবহান অভিযোগ করেন, “জুলাই আন্দোলনে ছাত্র-জনতার ওপর হামলাকারী, স্বৈরাচারের দোসর এবং ২০১৪-২০১৮ সালে নৌকার প্রার্থীর পক্ষে প্রকাশ্যে শো-ডাউন ও ভোট কারচুপি করেছে শরাফ উদ্দীন আজাদ সোহেল। এছাড়াও আওয়ামী লীগের প্রভাব খাটিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান হয়েছেন। তার স্বৈরাচারী প্রভাব থেকে তৎকালীন প্রশাসনিক কর্মকর্তারা পর্যন্ত রেহাই পাননি। স্বৈরাচার পালিয়ে গেলেও গোপনে থেকে লাঠিয়াল বাহিনী দিয়ে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করেছে, হুমকি-ধমকি এবং বিএনপির অসংখ্য নেতাকর্মীদের ওপর হামলার শিকার করেছে। তার বিরুদ্ধে একাধিক সংবাদ প্রচার হলেও প্রশাসন নিরব ভূমিকা পালন করছে। আমরা তার মনোনয়ন বাতিল ও দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি করছি।”

উপজেলা বিএনপির একাধিক নেতাকর্মীর অভিযোগ, “সোহেল চেয়ারম্যানের লাঠিয়াল বাহিনী সম্প্রতি বিএনপির বিভিন্ন অফিসে ভাঙচুর করেছে এবং জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের ছবি-পোস্টার পুড়িয়েছে। গত ১৫ বছর আওয়ামী লীগের প্রভাবে মানুষকে জিম্মি করে তার স্বৈরাচারী দাপট দেখানো হয়েছে। স্বৈরাচার পালিয়ে গেলেও সে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। এটি জুলাই আন্দোলনের ছাত্র-জনতা ও গণআন্দোলনের বীরত্বকে কলুষিত ও মর্মাহত করছে।”

রামগতি উপজেলা সহকারি রিটার্নিং কর্মকর্তা নিলুফা ইয়াসমিন নিপা বলেন, “শরাফ উদ্দীন আজাদ সোহেল এখান থেকে মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন, তবে জমা দিয়েছেন জেলা কার্যালয়ে।”

জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মেহেদী হাসান এই বিষয়ে একাধিকবার ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।