লক্ষ্মীপুরে স্থানীয়দের দানে ৭৬ কিলো মিটারের ভুলুয়ার খনন শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভোরের পত্রিকা
প্রকাশ: ১২ মাস আগে

লক্ষ্মীপুর জেলা প্রতিনিধি : লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার চর পোড়াগাছা ইউনিয়নের আজাদনগর স্টীল ব্রিজ এলাকা থেকে খনন কার্যক্রম শুরু করা হয়। মাদ্রাসা শিক্ষক মুফতি নুরুল্লাহ খালেদ, মুফতি মো. শরীফুল ইসলাম, মাওলানা কামাল উদ্দিন তাহেরি, কৃষক মিজানুর রহমান পিংকু, সমাজসেবক জাহাঙ্গীর আলম ও সোহেল ভুইঁয়ার উদ্যোগে গত ২৪ জুলাই এ কার্যক্রম শুরু করা হয়।

শনিবার (২ আগস্ট) লক্ষ্মীপুর জেলা শহর থেকে ৬০ কিলোমিটার দূরের আজাদনগর স্টিল ব্রিজ এলাকা গিয়ে দেখা গেছে ২টি স্কেভেটর মেশিন ভুলুয়া নদী থেকে মাটি কেটে ওপরে তোলা হচ্ছে। এসময় নদীতে স্রোত দেখা গেছে। 

এ সময় ভুলুয়া নদী খননের একজন উদ্যোক্তা ও মাদ্রাসা শিক্ষক মুফতি শরীফুল ইসলাম জানান, ২ আগস্ট পর্যন্ত ৯দিনে প্রায় ২ কিলোমিটার নদীর এক দিকে খনন করা হয়। এতেই নদীতে তীব্র স্রোত তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র, ৭৬ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য ও ১০০ মিটারের বেশি প্রস্থের ভুলুয়া নদী দেশের দক্ষিণাঞ্চলের লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি, কমলনগর, লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা এবং নোয়াখালী জেলার সদর উপজেলা ও সুবর্ণচর উপজেলা হয়ে মেঘনা নদীতে মিলিত হয়েছে। এসময় এ নদী লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালী জেলার ২০টি ইউনিয়নকে সংযুক্ত করেছে।

নদীটি এ অঞ্চলের কৃষি , মৎস্য আহরণ ও অন্যান্য কাজে গুরুত্বপূর্ণ হলেও বর্তমানে তা এলাকাবাসীর গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখন দখলদারির কারণে পলি জমে মরে গেছে। সামান্য বৃষ্টিপাত হলেও জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। 

স্থানীয়ভাবে জানা গেছে, চলতি বর্ষা শুরুর আগেই ভুলুয়া নদী খনন করতে মানববন্ধন শেষে লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে।

এর আগে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ভুলুয়া নদী থেকে সকল অবৈধ বাঁধা অপসারণ করে নদীটি খনন করে রামগতি-কমলনগরের জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হাইকোর্টে একটি রিটপিটিশন দাখিল করেন, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আব্দুস সাত্তার পালোয়ান।

লক্ষ্মীপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. ইমতিয়াজ মাহমুদ বলেন, ‘নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর জেলার ভুলুয়া নদী খননের জন্য যৌথভাবে একটি সমীক্ষা চলছে। আশা করি খুব শীঘ্রই কাজ হবে। অন্যদিকে এলাকাবাসীর নিজস্ব  উদ্যোগে নদী খননের কথা আমাদেরকে জানিয়েছে। আমরাও তাদেরকে বলেছি আমরা যতটুকু পারি সাধ্যমতো সহযোগিতা করবো।’ সব কিছুর আগে মানুষ ও ফসল বাঁচতে হবে বলেও জানান এ কর্মকর্তা।