ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতিসহ ৮জনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ দিলেন স্বেচ্ছাসেবকদলকর্মী!

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভোরের পত্রিকা
প্রকাশ: ১ বছর আগে

গাজীপুর প্রতিনিধি

গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভার ভাংনাহাটি এলাকায় একটি তৈরি পোশাক কারখানার কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি, চাঁদাবাজি এবং ওয়ার্ক অর্ডারের মাল ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আফাজ উদ্দিন মন্ডলসহ ৮জনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ হয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাতে শ্রীপুর থানায় ওই লিখিত অভিযোগ করেন পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য ওমর ফারুক। তিনি ভাংনাহাটি গ্রামের হানিফের ছেলে। তিনি বিধি অনুসারে ওয়ার্ক অর্ডার নিয়ে ওই গ্রামের সওফ ট্যেক্স লিমিটেড নামে গার্মেন্টস কারখানার জুট ব্যবসা করেন।  

অভিযুক্তরা হলো, পৌরসভার ভাংনাহাটি গ্রামের স্থানীয় মৃত শুক্কুর আলীর ছেলে আফাজ উদ্দিন মন্ডল (৪৫),তিনি ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি, একই এলাকার মৃত কুদরত আলীর ছেলে আউয়াল মন্ডল ও গফুর মন্ডল, মৃত গিয়াস উদ্দিন প্রধানের ছেলে ইকবাল প্রধান, মৃত মফিজ উদ্দিনের ছেলে সাহিদুল ইসলাম, আব্দুল হামিদের ছেলে সফিকুল ইসলাম, পৌরসভার উজিলাব গ্রামের হেলাল উদ্দিনের ছেলে মাসুদ রানা, নৈমদ্দিন ফকিরের ছেলে মনির ফকিরসহ অজ্ঞাত ১৪-১৫ জন।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, উক্ত অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে কারখানার জুট ব্যবসায় চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। টাকা না দেওয়ায় তারা ভয়ভীতি প্রদর্শন, হামলা এবং কারখানার কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করে আসছে। অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি দুপুরের দিকে ওই কারখানা থেকে ৩টি কভার ভ্যানে প্রায় ৫লাখ টাকা মূল্যের নীট গার্মেন্টস পণ্য ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়। কারখানার প্রধান ফটকের সামনে পৌঁছালে বিএনপি নেতা আফাজ উদ্দিন মন্ডলের নেতৃত্বে পথরোধ করেন। এরপর জুটভর্তি গাড়ির চালককে হুমকি দিয়ে আটকিয়ে রাখে। ফোন দিয়ে ওমর ফারুকের নিকট ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সন্ধ্যা পর্যন্ত গাড়িগুলো আটকে রাখা হয়। পরে গাড়ি গুলো ছিনিয়ে নিয়ে যায়। ব্যবসা করতে হলে আমাদের চাঁদা দিতেই হবে বলে হুমকি দেয়।

অভিযোগকারী ওমর ফারুক বলেন,’ আওয়ামী লীগ আমলে আমার নামে ৩টি রাজনৈতিক মামলা হলে আমাকে পালিয়ে বেড়াতে হয়েছে। এখন বিএনপির একটি পক্ষ আমার নামে হাসিনার মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করছে। আমার নামে বৈধ কাগজপত্র থাকার পরও অন্যায় ভাবে মাল ছিনিয়ে নিয়েছে। এ ঘটনার বিচার চাই।’

এ বিষয়ে বিএনপির সভাপতি আফাজ উদ্দিন মন্ডলের সাথে একাধিকবার  করার চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জয়নাল আবেদীন মন্ডলের মুঠোফোনে একাধিক বার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। 

গাজীপুরের পুলিশ সুপার ড. চৌধুরী মোঃ যাবের সাদেক বলেন, কারখানায় চাঁদাবাজির বিষয়ে ভুক্তভোগী ফোন করে আমাকে জানিয়েছেন। থানায় অভিযোগ দায়ের করলে তদন্ত করে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।