লক্ষ্মীপুর কালেক্টরেট স্কুল এন্ড কলেজ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভোরের পত্রিকা
প্রকাশ: ২ years ago

অধ্যক্ষকে অপসারণের দাবিতে একাট্টা শিক্ষকরা, ক্ষুব্ধ অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা

জুনায়েদ আহমেদ :

লক্ষ্মীপুর জেলা শহরের প্রাণকেন্দ্রে স্থাপিত ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপীঠ কালেক্টরেট স্কুল এন্ড কলেজ। 

নানা আর্থিক অসংগতি, একাডেমিক বিশৃঙ্খলা ও শিক্ষকদের পাঠদানের পরিবর্তে কোচিং বাণিজ্যের কারণে একরকম ঢিমেতালে চলছিলো প্রতিষ্ঠানটি। 

এদিকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের শেষের দিকে এ প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ পদে যোগদান করেন নির্মল ইন্দু সরকার। অল্প সময়েই প্রতিষ্ঠানের ভেতরের  নানা সমস্যা চিহিৃত করার পাশাপাশি শিক্ষার মানোন্নয়নে কাজ শুরু করেন তিনি, এতে সন্তুষ্ট অভিভাবকরাও। 

তবে সর্ষের ভূত তাড়াতে গিয়ে নিজ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের রোষানল আর ষড়যন্ত্রের বলি হতে হচ্ছে তাঁকে। ক্লাস বর্জন ও অধ্যক্ষকে জিম্মি করে পদত্যাগ পত্রে স্বাক্ষরের চেষ্টাসহ কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ব্যানারকে ব্যবহার করে অধ্যক্ষকে অপসারণের জন্য ওই শিক্ষকরাই দিচ্ছেন নানা স্লোগান।

এদিকে বিধি বহির্ভূতভাবে উপাধ্যক্ষ পদ দখল, পরীক্ষার ফি, প্রশংসাপত্র এবং ফরম পূরণ বাবদ অতিরিক্ত ফি আদায় ও শিক্ষার্থীদেরকে জোর করে সড়কে এনে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ব্যানার নিয়ে অবস্থান করানোর কারণে ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা। শিক্ষার্থীরা বলছে, মানববন্ধনে কয়েকজন শিক্ষকের নির্দেশে অংশগ্রহণ করলেও এ ব্যাপারে কিছুই জানে না তারা। 

গেলো ১২ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার সকালে ওই প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন শিক্ষক ক্লাস বর্জন করে কালেক্টরেট স্কুল এন্ড কলেজ প্রাঙ্গণে শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন ও অধ্যক্ষের অপসারণের দাবিতে বিভিন্ন  স্লোগান দেয়। এর আগে অধ্যক্ষ নির্মলের বিরুদ্ধে ওই শিক্ষকরাই প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসকের কাছে অনাস্থা দেন।

লক্ষ্মীপুর কালেক্টরেট স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ নির্মল ইন্দু সরকার বলেন, প্রতিষ্ঠানটিতে কিছু শিক্ষক অসাধু কাজের সাথে জড়িত রয়েছে। এবিষয়ে তাদেরকে বারবার সতর্ক করা হয়েছে। উল্টো শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করে  তাকে পদত্যাগে বাধ্য করার চেষ্টা করছে। প্রতিষ্ঠানে তার কোন অনিয়ম পেলে তিনি পদত্যাগসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের আইনগত যেকোন ব্যবস্থা তিনি মেনে নিবেন উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, কোন অসাধু চক্রের কাছে তিনি মাথা নত করবেন না। প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায় বিচার চান তিনি।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) সম্রাট খীসা বলেন, অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে ব্যবস্থা প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানালেন তিনি।

শিক্ষার পরিবেশ বিঘ্নিতকারী ও অধ্যক্ষকে লাঞ্চিতকারীদের বিচার চান সচেতন অভিভাবকরা।