
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা : দেশের ৩০ জেলায় নতুন সরকারি মেডিকেল কলেজ স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে আটটি জেলায় মেডিকেল কলেজ স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাই চলছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
বুধবার জাতীয় সংসদে সরকারদলীয় সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমানের প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ তথ্য জানান।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশের ৩৪ জেলায় ৩৭টি সরকারি মেডিকেল কলেজ রয়েছে। বাকি ৩০ জেলায় কোনো সরকারি মেডিকেল কলেজ নেই। এসব জেলায় পর্যায়ক্রমে মেডিকেল কলেজ স্থাপন করা হবে।
যেসব জেলায় নতুন মেডিকেল কলেজ স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে, সেগুলো হলো—নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, মুন্সীগঞ্জ, রাজবাড়ি, শরীয়তপুর, মাদারীপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ফেনী, লক্ষ্মীপুর, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, নাটোর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, জয়পুরহাট, বাগেরহাট, ঝিনাইদহ, নড়াইল, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, ভোলা, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বরগুনা, মৌলভীবাজার, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও ও শেরপুর।
তিনি আরও জানান, মুন্সীগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ঠাকুরগাঁও, নাটোর, নরসিংদী, ভোলা, শেরপুর ও লক্ষ্মীপুর—এই আট জেলায় মেডিকেল কলেজ স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাই করা হচ্ছে।
এদিকে, চট্টগ্রাম-১২ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ এনামুল হকের প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, যক্ষ্মা বাংলাদেশে একটি মারাত্মক জনস্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে রয়ে গেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, যক্ষ্মা রোগীর সংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশ শীর্ষ দেশগুলোর একটি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ১৯৯৩ সালে ডব্লিউএইচও যক্ষ্মাকে বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করার পর থেকে বাংলাদেশ সরকার এ রোগ নিয়ন্ত্রণে কাজ করে যাচ্ছে। দারিদ্র্য, অপুষ্টি, ধূমপান, ডায়াবেটিস, জনসংখ্যার ঘনত্ব ও সচেতনতার অভাব যক্ষ্মা সংক্রমণ বৃদ্ধির পেছনে ভূমিকা রাখছে।
তিনি জানান, যক্ষ্মা শনাক্তকরণ ও চিকিৎসা সেবা জোরদারে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও ডায়াগনস্টিক সরঞ্জাম নিশ্চিত করতে গ্লোবাল ফান্ডের সহায়তার পাশাপাশি সরকারি অর্থায়ন বাড়ানো হয়েছে। এ জন্য ৩ হাজার ১৪২ কোটি টাকার একটি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদনের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
সরকারদলীয় সংসদ সদস্য মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্য খাতে শূন্যপদ পূরণে নিয়োগ কার্যক্রম চলমান আছে। সিনিয়র স্টাফ নার্স নিয়োগ প্রক্রিয়া এগিয়ে চলছে এবং গত ১৩ মার্চ মিডওয়াইফ পদে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মৌখিক পরীক্ষা শেষ হয়েছে। দ্রুতই এসব শূন্যপদ পূরণ করা হবে।
সংসদের এ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।
