১৬৬৬ সালে বাংলায় মুঘল শাসন শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করেছিল

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভোরের পত্রিকা
প্রকাশ: ৭ মাস আগে

১৬৬৬ সালে বাংলায় মুঘল শাসন আওরঙ্গজেবের অধীনে সুসংগঠিত ও শান্তিপূর্ণ ছিল। শোভা সিংহের বিদ্রোহ দ্রুত দমন করা হলেও, প্রদেশে কোনো বড় বিশৃঙ্খলা দেখা যায়নি। আরাকানের মগদের সহযোগিতায় পর্তুগিজ জলদস্যুও চট্টগ্রামের শায়েস্তা খানের বিজয়ের পর বন্ধ হয়ে যায়।

সিরাজুল ইসলাম : মুঘল শাসন আমলে বাংলা একটি শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ প্রদেশ হিসেবে পরিচিত ছিল। দিল্লি থেকে নিয়োগপ্রাপ্ত সুবাহদার ও অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা প্রদেশ পরিচালনা করতেন। সম্রাট ও কেন্দ্রীয় সরকার বাংলার প্রশাসনে সরাসরি নজর রাখতেন এবং সুবাহদারের শূন্য পদ পূরণের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতেন।

বহির্বাণিজ্য, সোনা ও রুপার অন্তঃপ্রবাহ বাংলাকে ‘জান্নাত-উল-বিলাদে’ হিসেবে পরিচিত করেছিল। ইউরোপীয় পর্যটকরা, যেমন দুয়ার্তে বারবোসা, ভার্থেমা, টমাস বাউরি প্রমুখ, বাংলার ধনসম্পদ ও উৎপন্ন দ্রব্যের প্রশংসা করেছেন।

মুঘল আমলের স্থানীয় প্রশাসন গ্রামপ্রধান, পঞ্চায়েত, কাজী, কানুনগো, আমিন, থানাদার ও ফৌজদারদের মাধ্যমে পরিচালিত হতো। এটি ছিল একটি অংশীদারিত্বমূলক শাসন ব্যবস্থা যেখানে হিন্দু ও মুসলমান উভয়ই প্রশাসনিক ভূমিকা পালন করতেন।

প্রায় একশ বছর পর, আঠারো শতকের মাঝামাঝি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলায় শক্তিশালী হয়ে ওঠে এবং ধাপে ধাপে প্রাদেশিক শাসন প্রতিষ্ঠা করে। কোম্পানির আধিপত্য ১৭৬৫ সালে দীউয়ানি লাভের মাধ্যমে নিশ্চিত হয়, যেখানে কোম্পানি রাজস্ব সংগ্রহ করলেও নায়েব দীউয়ান প্রাদেশিক প্রশাসনের নামমাত্র প্রধান ছিলেন।