
নাজমুল হোসেন, নিজস্ব প্রতিবেদক : সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃ্ত্যুবরণ করেছেন রামগঞ্জ উপজেলার ভাটরা ইউনিয়নের পাঁচরুখি গ্রামের ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান (৪০), তার স্ত্রী মেহের আফরোজ সুমী (৩০), বড় কন্যা মোহনা (১৩) ও ছোট কন্যা সুবাহ (১.৫)। একই ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন গাড়ি চালক মোহাম্মদ জিলানী বাবর।
দুর্ঘটনার মাত্র বেঁচে থাকা কন্যা ফাইজা আক্তার (১১) এখন দেশে ফিরেছেন। ফাইজা দুর্ঘটনার পর প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে সোমবার (২২ ফেব্রুয়ারি) রাতে সৌদি প্রবাসী মামা আজহারুল ইসলাম সুমন ও মামা তানভীর আহম্মেদ এর তত্বাবধানে বাংলাদেশে আসেন।
ফাইজার শেষ কথাগুলো
ফাইজা আক্তার ঘটনার আগে বলে ছিল, “আমি তো চলে এসেছি, বাবা-মা, আপু ও ছোট বোন সুবাহকে ঈদের আগেই আসতে হবে। আমি অসুস্থ তাই মামার সাথে চলে এসেছি। আমি আর কখনো মাইক্রোতে উঠবো না। আর কখনো বিদেশে যাবোনা।”
সে জানে না, মা-বাবা ও দুই বোন নিহত হয়েছেন; মনে করছে তারা ঈদের আগেই দেশে ফিরে আসবেন।
দুর্ঘটনার বিবরণ
ফ্যামিলি পবিত্র ওমরা হজ্বের জন্য ৩ ফেব্রুয়ারি সৌদি আরব যান। ১৬ ফেব্রুয়ারি (রোববার) রাত ৩টায় সৌদি সময় ও বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় আবহা এলাকায় দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান মিজানুর রহমান, তার স্ত্রী ও দুই কন্যা এবং গাড়ি চালক।
মরদেহ ফিরিয়ে আনার সংগ্রাম
ফাইজার দাদা বাহারুল আলম জানিয়েছেন, পরিবারের চারজনের মরদেহ সৌদি আরবের একটি হসপিটালের মর্গে রয়েছে। তাদের দেশে আনার জন্য ১৫–১৬ লাখ টাকা প্রয়োজন। তিনি বলেন, “এত টাকা কোথায় পাবো আমরা।”
কাতার ফেরত মামা মামুন হোসেন বলেন, “আমি বাংলাদেশ ও সৌদি সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতরের কাছে বিনীত অনুরোধ করছি যেন আমাদের মরদেহগুলো দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।”
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, মিজানুর রহমান ছিলেন নম্র-ভদ্র, গরীব ও অসহায়দের পাশে দাঁড়াতেন। জেলা প্রশাসক অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সার্বিক সম্রাট খীসা শোক প্রকাশ করে জানিয়েছেন, প্রশাসন পরিবারের পাশে রয়েছে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে মরদেহগুলো দেশে আনার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
