সিরাজুল ইসলাম, সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : বিশ্বের বৃহত্তম লোনাপানির বন সুন্দরবন–এ আজ মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) থেকে শুরু হচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত মধু আহরণ মৌসুম। প্রতি বছরের মতো এবারও বন বিভাগের নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী মৌয়ালরা বনে প্রবেশ করে প্রাকৃতিক চাক থেকে মধু সংগ্রহ করবেন।
বন বিভাগ জানিয়েছে, চলতি মৌসুমে ১১০০ কুইন্টাল মধু এবং ৬০০ কুইন্টাল মৌমাছির মোম সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সাধারণত এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত এ কার্যক্রম চলবে।
তবে মৌসুমের শুরুতেই কিছুটা শঙ্কায় রয়েছেন মৌয়ালরা। তাদের মতে, মধু উৎপাদনের সঙ্গে বৃষ্টির ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। বৃষ্টি কম হলে মৌচাকে মধুর পরিমাণও কমে যায়।
সুন্দরবনসংলগ্ন গাবুর ইউনিয়নের অভিজ্ঞ মৌয়াল আবু মুছা বলেন, “ছোটবেলা থেকেই বনে গিয়ে চাক ভাঙছি। যে বছর যত বৃষ্টি হয়, সে বছর তত মধু পাওয়া যায়। কিন্তু এ বছর এখনো বৃষ্টি হয়নি, তাই মধু কেমন হবে তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।”
তিনি আরও বলেন, মধু সংগ্রহ করতে গিয়ে নানা ঝুঁকির মুখে পড়তে হয়। ধোঁয়া ও ধুনোর গন্ধে বাঘের উপস্থিতি বাড়ে। পাশাপাশি পাগলা মৌমাছির আক্রমণও বড় ঝুঁকি।
বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, মৌয়ালদের নির্ধারিত পারমিট নিয়ে দলবদ্ধভাবে বনে প্রবেশ করতে হবে। একই সঙ্গে বনজ সম্পদ রক্ষায় নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে মধু আহরণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অপরিকল্পিতভাবে চাক ধ্বংস বা অতিরিক্ত আহরণ করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাংলাদেশ বন বিভাগ জানায়, গত ২০২৪–২৫ মৌসুমে ৮৫৪ দশমিক ৫ কুইন্টাল মধু এবং ২৭৫ দশমিক ৫ কুইন্টাল মোম সংগ্রহ করা হয়েছিল। ওই সময় ২৪৮টি পারমিটের মাধ্যমে ১ হাজার ৭০৯ জন মৌয়াল বনে প্রবেশ করেন।
সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক মো. মশিউর রহমান বলেন, “মধু আহরণ মৌসুম ঘিরে সব ধরনের প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে। মৌয়ালদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।”
সংশ্লিষ্টরা জানান, উপকূলীয় অঞ্চলে চার হাজারের বেশি পেশাদার মৌয়াল এ বন থেকে জীবিকা নির্বাহ করেন। তাদের জন্য নিয়মিত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করা হয়, যাতে সঠিক সময়ে ও পরিবেশবান্ধব উপায়ে মধু সংগ্রহ করা যায়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে গাছে ফুল কম হলে মধু উৎপাদনও কমে যায়। আবার বৃষ্টির পানির ওপর মৌমাছির নির্ভরতা থাকায় বৃষ্টিহীন মৌসুমে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
শ্যামনগরভিত্তিক বেসরকারি সংস্থা বাংলাদেশ এনভায়ারমেন্ট ডেভলপমেন্ট সোসাইটি–এর পরিচালক মাসুদুর রহমান মুকুল বলেন, “সুন্দরবনের প্রাকৃতিক মধু অত্যন্ত উৎকৃষ্ট মানের। এটি সঠিকভাবে প্রক্রিয়াজাত করা গেলে বিদেশে উচ্চমূল্যে রপ্তানি করা সম্ভব।”
তিনি নিউজিল্যান্ডের বিখ্যাত মানুকা মধু–এর উদাহরণ দিয়ে বলেন, “প্রাকৃতিকভাবে উৎপাদিত এই মধু বিশ্ববাজারে অত্যন্ত দামি। আমাদের মধুকেও সেভাবে ব্র্যান্ডিং করা গেলে দেশের অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখতে পারে।”
সংশ্লিষ্টদের আশা, অনুকূল আবহাওয়া থাকলে এবার নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে। এতে যেমন সরকারের রাজস্ব আয় বাড়বে, তেমনি উপকূলীয় অঞ্চলের হাজারো মৌয়াল পরিবারের জীবিকায় স্বস্তি ফিরবে।
প্রধান কার্যালয়ঃ মহা সি.এন.জি ভবন সংলগ্ন (৪র্থ তলা), ঢাকা- ময়মনসিংহ রোড, মাওনা চৌরাস্তা, শ্রীপুর, গাজীপুর।
মোবাইলঃ ০১৫৩১-১৭২৭৫০ , ইমেইলঃ dbhorerpatrika.com
ওয়েবসাইটঃ www.bhorerpatrika.com বিজ্ঞাপনঃ ০১৩০৫-৯৫০৬২৫ ইমেইলঃ info@bhorerpatrika.com