সীমান্তবর্তী চার পয়েন্টে মিয়ানমারে আগুনে কুণ্ডলী

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভোরের পত্রিকা
প্রকাশ: ২ years ago

টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি :

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে আরাকান আর্মি ও সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষে মর্টার শেল ও ভারী গোলার বিকট শব্দে কক্সবাজার টেকনাফজুড়ে কাপঁছে। পাশাপাশি দেশটির অবকাঠামো-ঘরবাড়ি ধ্বংস হয় এবং আগুনের কুণ্ডলী ছড়িয়ে পরার দৃশ্য এপাড় থেকে দেখা গেছে। 

রবিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত টেকনাফের নাইট্যং পাড়া, পৌরসভার জালিয়া পাড়া, সদরের নাজির পাড়া ও সাবরাংয়ের শাহপরীর দ্বীপে মিয়ানমারে ওপাড়ে সীমান্তের তীরে গ্রামগুলোতে ধোঁয়ার কুণ্ডলি (জ্বলছে) উড়তে দেখা গেছে।

সীমান্তে আগুনে কুন্ডলী দেখা যাচ্ছে বলে স্বীকার করেছেন টেকনাফ পৌরসভার প্যানেল মেয়র মুজিবুর রহমান। 

তিনি বলেন, ‘শনিবার রাত থেকে রবিবার দুপুর পর্যন্ত সীমান্তে ওপাড়ের বিকট গোলার শব্দে এপাড়েরর সীমান্তবর্তী  মানুষের মাঝে আতঙ্ক বেড়েছে।

 পাশাপাশি নাফনদের ওপাড়ে কয়েকটি স্পর্টে আগুনে কুণ্ডলী দেখা গেছে। এছাড়া সীমান্তে যাতে অনুপ্রবেশ না ঘটে সেজন্য টহল জোরদার করেছে বিজিবি।’ 

টেকনাফ সীমান্তের বাসিন্দা সৈয়দ হোছাইন বলেন, ‘ রাতভর সীমান্তজুড়ে বিকট গোলার শব্দ পাওয়া গেছে। এতে এখানকার বসবাসকারী মানুষের মাঝে আতঙ্ক বাড়ছে। এছাড়া সকাল থেকে সীমান্তের ওপাড়ে আগুন জ্বলছে। এভাবে চলতে থাকলে আবার রোহিঙ্গাদের ঢল নামতে পারে।’ 

সীমান্তের গোলার বিকট শব্দের কারনে নির্ঘুম রাতভর নির্ঘুম রাত কাটছে হয়েছে বলে জানিয়েছেন টেকনাফের সীমান্তের বাসিন্দা মাহাবুবুর রহমান।

 তিনি বলেন, ‘আবার দুই দিন ধরে সীমান্তে গোলার বিকট শব্দ পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া নাফনদের ওপাড়ে আগুন দেখা গেছে।’ 

একিকে, মিয়ানমারের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন আরাকান আর্মির সঙ্গে দেশটির সেনাবাহিনীর তুমুল সংঘর্ষ চলছে। টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং থেকে শাহপরীরদ্বীপ পর্যন্ত ৫৪ কিলোমিটার নাফনদীতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বিজিবি ও বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের সদস্যরা দিনরাত নাফনদী ও সীমান্ত সড়কে টহল বৃদ্ধি করেছে। সেটি চলমান এবং যে কোন পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে সব সময় প্রস্তুত সীমান্তরক্ষী বিজিবি ও কোস্টগার্ড।

স্থানীয়রা জানায়, শনিবার সকালে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে আরাকান আর্মি ও সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে যুদ্ধ চলামান রয়েছে। ফলে টেকনাফের টেকনাফের নাইট্যং পাড়া, পৌরসভার জালিয়া পাড়া, সদরের নাজির পাড়া ও সাবরাংয়ের শাহপরীর দ্বীপের ওপাড়ে আশিক্কা পাড়া, সুদাপড়া, পাতংজা, পেরাংপুলে আগুনের ধোঁয়া দেখা গেছে।

এ বিষয়ে টেকনাফ-২ বিজিবির ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মহিউদ্দীন আহমেদ বলেন, ‘আজকেও সীমান্তের বিভিন্ন জায়গায় গোলাগুলির শব্দ পাওয়া গেছে। তবে নতুন করে যাতে কেউ সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ করতে না পারে, সেজন্য আমরা সর্বোচ্চ সর্তক অবস্থানে রয়েছি।’ 

এ বিষয়ে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আদনান চৌধুরী বলেন, ‘সীমান্তে বাসিন্দারা আজকেও ওপার থেকে গোলার বিকট শব্দ পাওয়ার কথা স্বীকার করেছে। নাফনদের ওপাড়ে আগুনের কুণ্ডলী দেখা গেছে।  তবে আমাদের আইনশৃঙ্খলাবাহিনী সদস্যরা যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রস্তুত আছেন।’