
নয়ন বাবু, নিজস্ব প্রতিবেদক
সাপাহার: জাল দলিল করে সাপাহার উপজেলার খেড়ুন্দা ও তাজপুর মৌজায় একটি পরিবারের ২১ একর জমি দখল চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, ভূমি কর্মকর্তাদের যোগসাজশে একটি চক্র জাল দলিল করে জমি দখলের চেষ্টা করছে। সাপাহার উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শাহজাহান হোসেন ওই চক্রের মূলে হোতা বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
বিবাদমান জমির একটি অংশের মালিকানা দাবি করে মাসিরা চৌধুরী এই অভিযোগ করেন। তিনি পরিবার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ঢাকায় থাকেন। সাপাহার উপজেলার খেড়ুন্দা ফুটকইল গ্রামে তার বাবার বাড়ি। তার বাবা মকসুদাল হক চৌধুরী মারা যাওয়ার সময় ২২ একর সম্পত্তি সহ আরো অনেক সম্পত্তি রেখে যান।
বড় বোন মুনিরা চৌধুরী কানাডায় স্থায়ীভাবে বসবাস করেন। তাদের বাবার রেখে যাওয়া সম্পত্তির ওয়ারিশ তিনি ও তার বড় বোনসহ তার বড় ভাই মাকসুমুল হক চৌধুরী ও মা মৃত নার্গিস মুর্শিদা চৌধুরী। বাবার রেখে যাওয়া বাড়ি, আবাদি জমি, পুকুরসহ অন্যান্য সম্পত্তির কোনো বাটোয়ারা দলিল হয়নি। বড় ভাই মাকসুমুল হক তার দুই বোন ও মায়ের স্বাক্ষর জাল করে ২০১৮ সালে তৎকালীন ভূমি কর্মকর্তাদের যোগসাজশে জাল হেবা দলিল সম্পাদন করে ১০ দশমিক ৭৩ শতাংশ লিখে নেন। জাল হেবানামা দলিল সূত্রে মাসিরা ও তার বোনকে বঞ্চিত করে মাকসুমুল হক জুলফিকার আলী নামে এক ব্যক্তির কাছে ২০২০ সালে দুই মৌজায় মোট ২১ একরের ও বেশী সাপাহার রেজিষ্ট্রি অফিসে রেজিষ্ট্রি বায়না দলিল সম্পাদন করে নেন। পরে এ বিষয়ে জানতে পেরে ২০২০ সালে ৯ মার্চ ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে মাসিরা চৌধুরী একটি সি আর মামলা দায়ের মামলা নং ১৯৭/২০।
মাসিরা চৌধুরী বলেন, মামলার শুনানি আন্তে আদালত বিষয়টি আমলে নিয়ে তদন্তের জন্য সিআইডি পুলিশকে নির্দেশন দেন। সিআইডির তদন্তে জাল হেবানামার বিষয়টি প্রমাণিত হয়। ২০২১ সালের অক্টোবর সিআইডি পুলিশের মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আলমগীর শরীফ আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিলে আদালত মাকসুমুল হক, জমির বায়না দলিল গ্রহীতা জুলফিকার আলীসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করেন।
মামলা চলমান থাকা সত্ত্বেও ২০২১ সালের ১২ নভেম্বর তৎকালীন সাবরেজিস্টার মুক্তি আরা খাতুনের যোগসাজশে জাল হেবানামা দলিল করা ১০ একর সম্পত্তিসহ দুই মৌজায় ২১ একর সম্পত্তি সম্পাদন করেদেন। জমি ক্রেতাদের মধ্যে সাপাহার উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শাহজাহান হোসেনসহ ১৯ জন রয়েছে।
এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে বলেন মাসিরা চৌধুরী।
