

সিরাজুল ইসলাম, সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : তালা ও কলারোয়া উপজেলাকে নিয়ে গঠিত সাতক্ষীরা-১ আসনে এখন জমজমাট নির্বাচনী উত্তাপ।
বিএনপির সাবেক সাংসদ হাবিবুল ইসলাম হাবিব এবং জামায়াতের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ ইজ্জত উল্লাহর মধ্যে চলছে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা। স্থানীয় ভোটারদের মতে, এবারের নির্বাচন হবে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, যেখানে উন্নয়ন, মাদক দমন এবং কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে।
সাতক্ষীরা জেলার তালা ও কলারোয়া উপজেলার ২৪টি ইউনিয়ন এবং একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত সাতক্ষীরা-১ আসনে এবার নির্বাচনটি নতুন মাত্রা পেয়েছে। চার মাস আগে জামায়াত সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে অধ্যক্ষ মোহাম্মদ ইজ্জত উল্লাহর নাম ঘোষণা করলেই শুরু হয় নির্বাচনী জোয়ার। এরপর বিএনপিও নিজেদের প্রার্থী হাবিবুল ইসলাম হাবিবকে ঘোষণা করে মাঠে নামায়। এখন পুরো এলাকায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র আকার ধারণ করেছে। মিছিল, উঠান বৈঠক এবং পথসভা দিনে দিনে বেড়েই চলেছে। ভোটাররা মনে করছেন, এবারের নির্বাচন হবে অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ।
হাবিবুল ইসলাম হাবিব একসময় এই আসনের সাংসদ ছিলেন। তার রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় ছাত্রলীগের সময়, পরবর্তীতে বিএনপির সদস্য হয়ে তিনি দলের কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। সাতক্ষীরা-১ আসনে তার মূল দাবি হচ্ছে—এলাকার রাস্তাঘাট সংস্কার, জলাবদ্ধতা দূরীকরণ, মাদকমুক্ত সমাজ গঠন, এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি। তিনি জানিয়েছেন, তার প্রধান লক্ষ্য এলাকার উন্নয়ন এবং যুবসমাজের জন্য একটি সুস্থ পরিবেশ সৃষ্টি করা। তিনি বলেন, “আমার বিশ্বাস, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আমি জয়ী হব। এলাকার মানুষের জন্য অনেক কাজ করেছি এবং করব।"
অধ্যক্ষ মোহাম্মদ ইজ্জত উল্লাহর রাজনৈতিক জীবনও দীর্ঘ। ১৯৮০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র শিবিরের সদস্য হয়ে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন এবং পরে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য পদে আসেন। জামায়াতের এ নেতা তার প্রতিশ্রুতির মধ্যে স্থানীয় মানুষের নিরাপত্তা, শান্তিপূর্ণ সমাজ, এবং মাদকমুক্ত পরিবেশ গঠনের কথা বলেছেন। তিনি জানান, “আমরা মানুষের জন্য নিরাপদ পরিবেশ সৃষ্টি করব, যাতে তারা শান্তিতে ব্যবসা করতে পারে, পরিবার নিয়ে শান্তিতে বসবাস করতে পারে।"
এই আসনে ভোটারদের দাবির মধ্যে সবচেয়ে বড় যে ইস্যু তা হচ্ছে—জলাবদ্ধতা, কর্মসংস্থান, মাদকমুক্ত সমাজ, এবং শিক্ষার উন্নতি। তাছাড়া, তালা ও কলারোয়া উপজেলায় যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়ন এবং কৃষকদের জন্য ভর্তুকি বাড়ানোর দাবিও উঠেছে।
রাফা ইসলাম, একজন তরুণ নারী ভোটার, ঢাকা পোস্টকে বলেন, “আমরা চাই আধুনিক, শিক্ষিত এবং দুর্নীতিমুক্ত নেতৃত্ব। আমাদের শিক্ষার মান উন্নত হোক, এবং যুবদের জন্য কাজের সুযোগ বৃদ্ধি হোক।"
এদিকে, আব্দুল হাই, একজন স্থানীয় কৃষক ভোটার, বলেন, “আমাদের প্রাধান্য হলো সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করা, যাতে ধান, সবজি, এবং মাছ বাজারে সহজে পৌঁছাতে পারে। কৃষকদের জন্য ভর্তুকি এবং যুবকদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টির দাবি আমাদের।"
সাতক্ষীরা-১ আসনের রাজনৈতিক ইতিহাস বেশ উত্তাল। একসময় এই আসনটি ছিল বিএনপি ও চারদলীয় জোটের ঘাঁটি, কিন্তু সময়ের সাথে সাথে আসনটি হাতবদল হয়েছে আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি, জামায়াত এবং বিএনপির মধ্যে। অতীতের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি পাশাপাশি হলেও, এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টি মাঠে প্রায় নেই বললেই চলে। এমন পরিস্থিতিতে, বিএনপি এবং জামায়াতের লড়াই এবারের নির্বাচনে কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।
সব মিলিয়ে, সাতক্ষীরা-১ আসনটি একটি রাজনৈতিক থ্রিলার হয়ে দাঁড়িয়েছে। যেখানে বিএনপি ও জামায়াতের টানা শোডাউন, এবং নতুন ভোটারদের পরিবর্তনের তীব্র আকাঙ্ক্ষা নির্বাচনী মাঠকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে। ভোটারদের মতে, আসনটি এবার হবে শান্তিপূর্ণ উন্নয়ন বনাম দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার একটি বড় পরীক্ষা।
প্রধানত, সড়ক যোগাযোগ, জলাবদ্ধতা, মাদক দমন, কর্মসংস্থান এবং শিক্ষার মান উন্নয়ন—এই বিষয়গুলো ভোটারদের কাছে মূল "ব্যালট ইস্যু" হিসেবে পরিচিত। এর ভিত্তিতে প্রার্থীদের প্রতিশ্রুতি ও মাঠের বাস্তবতা মিলিয়ে নির্বাচনটির ফলাফল অনেকটাই নির্ভর করবে।
প্রধান কার্যালয়ঃ মহা সি.এন.জি ভবন সংলগ্ন (৪র্থ তলা), ঢাকা- ময়মনসিংহ রোড, মাওনা চৌরাস্তা, শ্রীপুর, গাজীপুর।
মোবাইলঃ ০১৫৩১-১৭২৭৫০ , ইমেইলঃ dbhorerpatrika.com
ওয়েবসাইটঃ www.bhorerpatrika.com বিজ্ঞাপনঃ ০১৩০৫-৯৫০৬২৫ ইমেইলঃ info@bhorerpatrika.com