
উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ত পানি, জলবায়ু পরিবর্তন ও সামাজিক বাধার কারণে নারীদের স্বাস্থ্য ও জীবিকা বিপর্যস্ত।
সিরাজুল ইসলাম, সাতক্ষীরা: বাংলাদেশের দক্ষিণ উপকূলের নারীরা শুধু প্রকৃতির সঙ্গে নয়, তাদের স্বাস্থ্যের সঙ্গে অবিরাম লড়াই করছে। লবণাক্ত পানি, দুর্যোগ ও দারিদ্র্যের কারণে নারীরা নানা স্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যে পড়ছেন। বিশেষ করে প্রজনন স্বাস্থ্য ও ত্বকের সমস্যা, উচ্চ রক্তচাপ এবং মাসিকের সময় অস্বাস্থ্যকর উপকরণ ব্যবহারের ফলে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে।
উপকূলীয় অঞ্চলের ৪টি জেলায় সমুদ্রপৃষ্ঠের উর্ধ্বমুখী বৃদ্ধি ও লবণাক্ততার কারণে ৮–১৫ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে খাদ্য, পানীয় পানি, কৃষি ও অবকাঠামোর ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
স্থানীয় নারী আমিরন বিবি ও মনজিলা খাতুনের মতো নারীরা নদীতে জাল টেনে বাগদার পোনা ধরে সংসার চালাচ্ছেন। দৈনন্দিন রোজগার খুব কম এবং সরকারি সহায়তা বা ভিজিডি কার্ড পাওয়া তাদের জন্য এখনও চ্যালেঞ্জ। শ্যামনগর ও পদ্মপুকুর ইউনিয়নের প্রায় শতাধিক পরিবার নদী তীরে বসবাস করছে, যেখানে দুর্যোগের সময় নারী ও শিশুদের জন্য স্যানিটেশন ব্যবস্থা নেই।
গবেষণা অনুযায়ী, লবণাক্ত পানিতে দীর্ঘক্ষণ কাজের ফলে নারী ও কিশোরীদের শারীরিক ও প্রজনন স্বাস্থ্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। স্কুলে শিক্ষাজীবনও প্রভাবিত হচ্ছে এবং বাল্যবিবাহের ঝুঁকি বাড়ছে।
সরকারি পদক্ষেপ যেমন মাতৃস্বাস্থ্য ভাউচার ও মোবাইল ক্লিনিক কার্যকর হলেও তা এখনও সীমিত। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্থানীয় নারী নেত্রী ও ধর্মীয় ব্যক্তিদের যুক্ত করে সচেতনতা বাড়ানো এবং জলবায়ু অভিযোজন নীতি ও প্রজনন স্বাস্থ্য সেবাকে সংযুক্ত করা জরুরি।
উপকূলীয় নারীরা শুধুমাত্র ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠী নয়, বরং প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় অগ্রণী সৈনিক। তাদের নেতৃত্ব, অভিজ্ঞতা ও স্বার্থকে স্বীকৃতি না দিলে সমস্যার সমাধান কঠিন।
