
সিরাজুল ইসলাম সাতক্ষীরা : যশোর জেলার কেশবপুর উপজেলার, ভদ্রা নদীর উজানে তালায় ১০গ্রামের প্রায় ২লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে মানবতার জীবনযাপন করছে। সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, ১০ গ্রামের প্রায় ২লক্ষাধিক মানুষ ২ সপ্তাহের বেশি পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
শুভাশুনি টু শিরাশুনি সেতু বাজার হিজলডাঙ্গা হয়ে কেশবপুরের বাওশুলা পর্যন্ত পিচের রাস্তায় কোথাও হাঁটু বা তার চেয়ে বেশি পানির নিচে বিগত ১৫ দিন ধরে তলিয়ে রয়েছে। বাড়ি ঘরে উঠানে মশা, সাপের উপদ্রব বেড়ে গেছে। সেই সাথে বেড়েছে পানি বাহিত রোগ। গোখাদ্য অতিরিক্ত বন্যার পানিতে ভিজে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, বিগত ৩-৪ দিন,র চেয়ে প্লাবিত এলাকায় পানি বেড়ে গিয়ে আরও অবনতি হয়েছে। কৃষকদের সবজির ক্ষেত ও আমন ধান গ্রামকে গ্রাম পানির নিচে তলিয়ে গেছে।
মৎস্য চাষিরা মারাত্নক ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে হাজার হাজার বিঘা ঘের প্লাবিত হয়ে ভেসে গেছে। হিজলডাঙ্গা গ্রামের আব্দুস সোবহান মোড়লের পুত্র মৎস্য চাষী আলামিন কান্না জনিত কন্ঠে বলেন। জোয়ারের পানির ঢল এসে আমার ৩০০ বিঘা ঘের পানিতে ভেসে গেছে। আমি এখন কি করবো বিভিন্ন এনজিও ব্যাংক থেকে ১৫ লাখ টাকা লোন নিয়ে ঘেরে আমার চারা মাছ ছাড়া ছিল ২৪ লাখ টাকার আর খাদ্যসহ আনুষাঙ্গিক আরও ১০ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। এখন আমি কি করবো ভেবে কুল পাচ্ছি না। এত টাকা ঋণ আমি এখন কিভাবে শোধ করবো। পরিবার-পরিজন নিয়ে কোথায় যাব কি করব বুঝে উঠতে পারছি না।
হিজলডাঙ্গা গ্রামের আরেক ব্যক্তি মশিউর রহমান জানান, এই মুহূর্তে একজন মারা গেলে ভাসিয়ে দেওয়া ছাড়া মাটি দেওয়ার কোন জায়গা নেই।
শিরাশুনি গ্রামের শহিদুল ইসলাম ড্রাইভার জানান,শিরাশুনী গ্রাম ও জনগণের চলাচলের রাস্তা পানিতে ডুবে গেছে। কৃষকদের কাঁচা ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। লাউতারা সুভাষোনি কাকুড়পাড়া গ্রামসহ বিলে পাট লাগানো ছিল। পানিতে বিল ডুবে থাকায় কৃষকরা পাট কাটতে পারিনি। কৃষকের আউশ-আমন ধান পানির তলে ডুবে গেছে। এই অঞ্চল প্রতি বছর ৬ মাস পানিতে ডুবে থাকে দেখার কেউ নেই। রুপা আমার মৌসুম প্রতিদিন রতনকৃত কৃষকের ধানের জমি প্রতিদিন বিভিন্ন বিলের একের পর এক তলিয়ে যাচ্ছে ধান ক্ষেত।
কৃষি অফিসার হাজিরা খাতুনের নিকট কৃষকের ক্ষয়ক্ষতির পরিমান ও তাদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য সরকারের নিকট প্রস্তাবনা প্রেরণ করেছেন কিনা জানতে চাইলে, তিনি জরুরী মিটিং রয়েছেন মর্মে জানান।
তালা উপজেলা নির্বাহী অফিসার দীপা রানী সরকারের এর নিকট সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ইউনিয়ন তেঁতুলিয়া ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কল্যাণে সরকারের পক্ষ থেকে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ ও পানি নিষ্কাশনের বিষেয় দৃষ্টি আকর্ষন করা হলে তিনি জানান, তেঁতুলিয়া ইউনিয়নে কচুরিপনা অপসারণের কার্যক্রম চলছে। তেঁতুলিয়া ইউনিয়নে কয়েকবার তিনি সরেজমিনের পরিদর্শন করেছেন। মঙ্গলবার বিকাল ৪টায় শিরাশুনী এলাকা পরিদর্শন করবেন বলে জানিয়েছেন।
