
সিরাজুল ইসলাম : সাতক্ষীরার নদ-নদী ও নৌ-খালগুলোর স্বাভাবিক গতিপ্রবাহ ফিরিয়ে আনতে ও নাব্যতা রক্ষায় বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে জেলা প্রশাসন। জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের কঠোর নির্দেশনার প্রেক্ষিতে অবৈধ দখলদারদের চিহ্নিত করে একটি পূর্ণাঙ্গ উচ্ছেদ কর্মপরিকল্পনা প্রস্তুত করা হয়েছে। যার অংশ হিসেবে আজ শনিবার (১৮ জুলাই) থেকে নদী থেকে নেট-পাটা অপসারণে মাঠে নেমেছে প্রশাসন।
জেলা প্রশাসনের রাজস্ব শাখা সূত্রে জানা গেছে, কপোতাক্ষ, ইছামতি ও বেতনার মতো গুরুত্বপূর্ণ নদ-নদীতে ৩০২ জন অবৈধ দখলদারের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। এই দীর্ঘমেয়াদী কর্মপরিকল্পনাটি ইতিমধ্যে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যানের নিকট পাঠানো হয়েছে এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে জেলা প্রশাসনের অফিসিয়াল ওয়েব পোর্টালে প্রকাশ করা হয়েছে।
দখলদারিত্বের ভয়াবহ চিত্র জেলা প্রশাসনের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, নদী অববাহিকার সরকারি জমি দখল করে প্রভাবশালীরা গড়ে তুলেছেন স্থায়ী টিনের ঘর, সীমানা প্রাচীর, বাণিজ্যিক মাছের ঘের, আমবাগান ও ফসলি জমি। এমনকি নদীর বুক চিরে বাণিজ্যিক ইটভাটা ও শিল্প কারখানার শেড নির্মাণের মতো পরিবেশ বিধ্বংসী কর্মকাণ্ডের প্রমাণও মিলেছে। সদর উপজেলার বাবুলিয়া মৌজায় ‘কামরুল এসবিবি’ ও ‘মনির এসবিএল’ নামের দুটি ইটভাটা নদীর সীমানার ভেতরে গড়ে তোলার চূড়ান্ত প্রমাণ পাওয়া গেছে।
উচ্ছেদ পরিকল্পনার চ্যালেঞ্জ তালা উপজেলার মাগুরা, জগদানন্দকাটি, পুটিয়াখালী, রাজেন্দ্রপুর ও জালালপুর মৌজায় কপোতাক্ষ নদের অববাহিকায় শতাধিক অবৈধ স্থাপনা রয়েছে। এসব উচ্ছেদে জেলা প্রশাসন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিলেও দুটি বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। প্রথমত, মাঠ পর্যায়ে উচ্ছেদ অভিযানের জন্য প্রয়োজনীয় লজিস্টিক ও জনবলের সংকট। দ্বিতীয়ত, দখলদারদের একটি বড় অংশ ‘ভূমিহীন’ হওয়ায় তাদের পুনর্বাসনের জটিলতা।
প্রশাসনের বক্তব্য সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মইনুল ইসলাম মইন বলেন, "আমরা ইতিমধ্যে উচ্ছেদ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে পুরোদমে কাজ শুরু করেছি। ভূমি মন্ত্রণালয়ের কাছে প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দের আবেদন করা হয়েছে। আজ থেকে নেট-পাটা অপসারণের মাধ্যমে প্রাথমিক অভিযান শুরু হয়েছে, এর পরপরই বড় দখলদারদের হাত থেকে নদীর জায়গা উদ্ধারে মূল অভিযান শুরু হবে। জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন এই প্রক্রিয়াটি সরাসরি তদারকি করছে, তাই প্রভাবশালী কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। নদী রক্ষা ও পুনঃদখল ঠেকাতে উদ্ধারকৃত জায়গাগুলোতে বনায়নের পরিকল্পনাও রয়েছে আমাদের।"
সুশীল সমাজের প্রতিক্রিয়া বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)-এর সাতক্ষীরা জেলা সম্পাদক মাধব চন্দ্র দত্ত বলেন, "নদী একটি জীবন্ত সত্তা। নদী না বাঁচলে সাতক্ষীরা বাঁচবে না। প্রশাসন যখন সাড়ে তিনশ দখলদারকে চিহ্নিত করেছে, তখন তাদের উচ্ছেদে দেরি করার কোনো অবকাশ নেই। রাষ্ট্রীয় আইনের প্রয়োগ করে দ্রুত নদীগুলো উদ্ধার করতে হবে এবং প্রয়োজনে কঠোর হতে হবে।"
উল্লেখ্য, বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই অতি গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলো পুরোপুরি উদ্ধারের জন্য ৫০ দিনের একটি ক্র্যাশ প্রোগ্রাম সাজিয়েছে জেলা প্রশাসন।
প্রধান কার্যালয়ঃ মহা সি.এন.জি ভবন সংলগ্ন (৪র্থ তলা), ঢাকা- ময়মনসিংহ রোড, মাওনা চৌরাস্তা, শ্রীপুর, গাজীপুর।
মোবাইলঃ ০১৫৩১-১৭২৭৫০ , ইমেইলঃ dbhorerpatrika.com
ওয়েবসাইটঃ www.bhorerpatrika.com বিজ্ঞাপনঃ ০১৩০৫-৯৫০৬২৫ ইমেইলঃ info@bhorerpatrika.com