সাতক্ষীরায় ভারী বর্ষণেও জলবায়ু সহনশীল প্রকল্পের ড্রেন ঢালাই, জনমনে ক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভোরের পত্রিকা
প্রকাশ: ১ সপ্তাহ আগে

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাতক্ষীরা : সাতক্ষীরায় টানা কয়েকদিনের রেকর্ডভাঙা ভারী বর্ষণে জনজীবন যখন বিপর্যস্ত, ঠিক তখনই প্রবল বৃষ্টি উপেক্ষা করে চলছে ‘জলবায়ু সহনশীল’ অবকাঠামো প্রকল্পের ড্রেন নির্মাণের ঢালাই কাজ। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় তড়িঘড়ি করে চালানো এই কাজের গুণগত মান ও স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

শনিবার (১১ জুলাই) বিকেলে শহরের সরকারি কলেজ-ঝুটিতলা সড়কের ফজিলা কন্টাক্টারের বাড়ির সামনে এই ঢালাই কাজ চলতে দেখা যায়।

সাতক্ষীরা আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে শনিবার দুপুর পর্যন্ত জেলায় রেকর্ড ৩১৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এমন বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও ড্রেনেজ ব্যবস্থার নির্মাণ কাজ সচল রাখায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। তাদের অভিযোগ, বৃষ্টির পানিতে সিমেন্ট ও বালুর মিশ্রণ ধুয়ে যাওয়ায় ঢালাইয়ের স্থায়িত্ব মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে। কোটি টাকার সরকারি এই প্রকল্পে চোখের সামনে এমন অনিয়ম মেনে নেওয়া যায় না।

পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, জার্মান উন্নয়ন ব্যাংক (কে-এফ-ডাব্লিউ) এবং বাংলাদেশ সরকারের যৌথ অর্থায়নে ‘ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্ট ইনফ্রাস্ট্রাকচার মেইনস্ট্রিমিং প্রজেক্ট (সিআরআইএমপি)’-এর আওতায় এই উন্নয়ন কাজ পরিচালিত হচ্ছে। ১ কোটি ৮১ হাজার ৫৫৯ টাকা ব্যয়ে ৪২৪ মিটার দীর্ঘ আরসিসি ড্রেনটি নির্মাণের দায়িত্ব পেয়েছে ‘মনির ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন লিঃ’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। প্রকল্পটির কাজ ২০২৭ সালের ১ অক্টোবরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও সম্প্রতি এর কাজ শুরু হয়েছে।

এ বিষয়ে ক্লাইমেট অ্যাকশন ফোরাম (ক্যাফ)-এর সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট এস এম বিপ্লব হোসেন বলেন, ‘যে প্রকল্পের উদ্দেশ্য চরম ভাবাপন্ন আবহাওয়ার ঝুঁকি মোকাবিলা করে শহরকে টেকসই রাখা, সেই প্রকল্পের কাজই যদি বৃষ্টির মধ্যে নিয়ম ভেঙে করা হয়, তবে তা চরম প্রহসনের শামিল। বৃষ্টির তোড়ে সিমেন্টের সঠিক অনুপাত নষ্ট হওয়ায় ঢালাই দুর্বল হয়ে পড়ছে। যথাযথ তদারকি না থাকলে প্রথম বর্ষাতেই এই প্রকল্প ধসে পড়ার শঙ্কা রয়েছে।’

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সাতক্ষীরা পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী এম এম নূর আহম্মদের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তার নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।

তবে সাতক্ষীরা পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আমি যতটুকু জানি, ড্রেনের দুপাশে স্টিলের শিট আটকে (বর্ডার লাইন) ঢালাই করা হচ্ছে। তারপরেও বিষয়টি আমি খোঁজ নিয়ে দেখব।’