সাতক্ষীরায় কমছে তেলচালিত মোটরসাইকেল বিক্রি, বাড়ছে ব্যাটারিচালিতের চাহিদা

নিজস্ব প্রতিবেদক: Farzana Akter Bristy
প্রকাশ: ৪ মাস আগে

সিরাজুল ইসলাম, সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : জ্বালানি সংকট ও প্রশাসনিক অনিশ্চয়তার প্রভাবে সাতক্ষীরায় তেলচালিত মোটরসাইকেলের বিক্রি উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে। একই সঙ্গে দ্রুত বাড়ছে ব্যাটারিচালিত মোটরসাইকেলের চাহিদা।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সকাল থেকে জেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ পাম্পে তেল সরবরাহ স্বাভাবিক নয়। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন মোটরসাইকেল চালকেরা। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জ্বালানি নিতে ‘ফুয়েল কার্ড’ বাধ্যতামূলক করার কথা জানানো হলেও তা এখনও বাস্তবায়ন না হওয়ায় পরিস্থিতি অনিশ্চিত রয়ে গেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ফিলিং স্টেশনগুলোতে মোটরসাইকেলের কাগজপত্র যাচাই কার্যক্রমও পুরোপুরি জোরদার হয়নি। ফলে বাধ্যতামূলক কাগজপত্র সংক্রান্ত নির্দেশনার প্রভাব এখনো দৃশ্যমান নয়। এ কারণে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ–এর সাতক্ষীরা কার্যালয়েও ড্রাইভিং লাইসেন্স বা রেজিস্ট্রেশনের জন্য বাড়তি চাপ লক্ষ্য করা যায়নি।

বিআরটিএ সাতক্ষীরার সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ার) উসমান সরওয়ার আলম বলেন, চলতি মাসে মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশনের আবেদন ৩০০ থেকে ৪০০টি এসেছে। ঈদ ও ছুটির কারণে কিছুটা কম হলেও পরিস্থিতি মোটামুটি স্বাভাবিক। তিনি বলেন, “মানুষের হাতে টাকা থাকলে বাইক কেনে, কিন্তু বর্তমানে আর্থিক সংকটও রয়েছে।”

তবে বাজারের চিত্র ভিন্ন। শহরের নিউমার্কেট মোড়ে অবস্থিত ‘ভেনাস অটোস’ শোরুম সূত্রে জানা যায়, ফেব্রুয়ারিতে যেখানে ১০ থেকে ১২টি তেলচালিত মোটরসাইকেল বিক্রি হয়েছিল, মার্চে তা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৩টিতে। একই সময়ে মোট ৩৮টি মোটরসাইকেল বিক্রি হলেও এর মধ্যে ৩৫টিই ছিল ব্যাটারিচালিত।

শোরুমটির ব্যবস্থাপক আব্দুল মজিদ বলেন, “তেলের সংকটের কারণে মানুষ এখন ব্যাটারিচালিত মোটরসাইকেলের দিকে ঝুঁকছে।”

অন্যদিকে শহরের ‘ইকো মটরস’ শোরুমের ব্যবস্থাপক শেখ পারভেজ জানান, তাদের চারটি শোরুমের মধ্যে তিনটিতেই ব্যাটারিচালিত মোটরসাইকেল প্রায় শেষ হয়ে গেছে। বর্তমানে মজুত রয়েছে মাত্র ১৫টি। তিনি বলেন, “জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারির তুলনায় মার্চে বিক্রি দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে।”

বিক্রেতারা জানান, অনেক ক্রেতা শোরুমে এসে খোঁজ নিলেও জ্বালানি সংকট ও কাগজপত্রের ঝামেলার কারণে কিনতে আগ্রহ হারাচ্ছেন। এতে বাজার কিছুটা স্থবির হয়ে পড়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, জেলায় নতুন-পুরাতন মিলিয়ে প্রায় ১০০ থেকে ১৫০টি মোটরসাইকেল শোরুম রয়েছে। বছরের শুরুতে বিক্রি স্বাভাবিক থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা এবং প্রশাসনিক কড়াকড়ির কারণে বাজারে মন্দাভাব দেখা দিয়েছে।

বিশ্লেষকদের ধারণা, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ব্যাটারিচালিত মোটরসাইকেলের বাজার আরও বিস্তৃত হতে পারে। তবে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে পরিবহন খাতে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।