সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে হামলার শিকার সাংবাদিক, তথ্য মুছে ফেলার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভোরের পত্রিকা
প্রকাশ: ২ মাস আগে

নিজস্ব প্রতিবেদক, রায়পুর (লক্ষ্মীপুর) : লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন এক সাংবাদিক। হামলাকারীরা তাঁর মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে সংবাদ–সংশ্লিষ্ট ভিডিও ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মুছে দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

ভুক্তভোগী আব্দুল আহাদ দৈনিক আমার সকাল–এর রায়পুর উপজেলা প্রতিনিধি এবং অনলাইন সংবাদমাধ্যম প্রজন্ম ২৪–এর লক্ষ্মীপুর জেলা প্রতিনিধি। তাঁর অভিযোগ, গত শনিবার রাতে উপজেলার বাসাবাড়ি বাজার এলাকায় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে ২০ থেকে ২৫ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল তাঁর ওপর হামলা চালায়।

আব্দুল আহাদ বলেন, রাতের দিকে সংবাদ সংগ্রহের জন্য বাসাবাড়ি বাজার এলাকায় গেলে কয়েকজন তাঁর পথরোধ করে পরিচয় জানতে চান। তিনি সাংবাদিক পরিচয়পত্র দেখানোর পরও তাঁকে ঘিরে ধরে মারধর করা হয়। হামলাকারীরা কিল-ঘুষি ও লাথি মেরে তাঁকে আহত করে।

সাংবাদিক আহাদের ভাষ্য, একপর্যায়ে তিনি সেখানে উপস্থিত উপজেলা বিএনপির সভাপতি নাজমুল ইসলাম মিঠুর কাছে সাহায্য চাইলে তিনি হামলাকারীদের থামানোর চেষ্টা করেন। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। পরে ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশ সদস্যদের সহায়তায় সেখান থেকে সরে যেতে সক্ষম হন।

আব্দুল আহাদ অভিযোগ করেন, হামলার সময় তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি কেড়ে নেওয়া হয়। পরে তিনি জানতে পারেন, ফোনে ধারণ করা একটি ভিডিওসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও ডকুমেন্ট মুছে ফেলা হয়েছে। এতে তাঁর পেশাগত কাজ ব্যাহত হয়েছে।

হামলার পর আহত অবস্থায় তিনি রায়পুর সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। পরদিন সকালে জানতে পারেন, তাঁর মোবাইল ফোনটি রায়পুর থানার এক পুলিশ কর্মকর্তার কাছে রয়েছে। পরে থানায় গিয়ে ফোনটি ফেরত নেন।

তবে অভিযোগ করতে গিয়ে তিনি বিড়ম্বনার মুখে পড়েন বলে দাবি করেন। তাঁর ভাষ্য, থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে গেলে কর্তব্যরত কর্মকর্তা ওসির সঙ্গে কথা বলতে বলেন। ওসি ছুটিতে থাকায় তিনি অভিযোগপত্র তদন্ত কর্মকর্তার কাছে জমা দিয়ে আসেন।

এ বিষয়ে রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মিয়া বলেন, ঘটনাটি নিয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। তদন্তের দায়িত্ব এএসআই মাহবুব আলমকে দেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রায়পুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি এ কে এম ফজলুল হক বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে কোনো সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনা গ্রহণযোগ্য নয়। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

রায়পুর সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ফারুক হোসাইন বলেন, এটি শুধু একজন সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনা নয়; স্বাধীন সাংবাদিকতা ও তথ্য সংগ্রহের অধিকারের ওপরও আঘাত। তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

ঘটনার পর থেকে রায়পুরের সাংবাদিক সমাজের মধ্যে উদ্বেগ বিরাজ করছে। স্থানীয় সাংবাদিকেরা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।